kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

সোলাইমানি হত্যার গল্প ট্রাম্পের মুখে

‘দশ নয় আট...তারা শেষ’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘দশ নয় আট...তারা শেষ’

ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের মুহূর্তগুলো নতুন করে উপস্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান দলের দাতাগোষ্ঠীদের নিয়ে গত শুক্রবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সে সময়ের ধারাবর্ণনা দেন। সোলাইমানিকে হত্যার পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি।

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিজের মালিকানাধীন মার এ লাগো রিসোর্টে ট্রাম্প গত শুক্রবার নির্বাচনী দাতাগোষ্ঠীদের নিয়ে নৈশভোজের আয়োজন করেন। আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যয়ের জন্য এদিন দাতাদের কাছ থেকে পাওয়া এক কোটি ডলার নির্বাচনী তহবিলে জমা পড়ে। বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের এই দিনে ট্রাম্প নিজের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ভোলেননি।

সোলাইমানি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের দেশ নিয়ে সে বাজে কথা বলছিল। সে বলছিল, আমরা আপনাদের দেশে হামলা চালাব। আমরা আপনাদের জনগণকে হত্যা করব। আমার কথা হলো, এসব আজেবাজে কথা আমাদের আর কত শুনতে হবে?’ সোলাইমানি আমেরিকা সম্পর্কে বাজে কথা বলতেন, এমন যুক্তি উপস্থাপনের পর তিনি হত্যাকাণ্ডের সময়ের বর্ণনা দিতে শুরু করেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে ওই সময় নিজের কথোপকথন তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা বলল, স্যার, তারা একসঙ্গে আছে। স্যার, তাদের হাতে দুই মিনিট ১১ সেকেন্ড আছে। কোনো ভুল নেই। তাদের বেঁচে থাকার জন্য দুই মিনিট ১১ সেকেন্ড আছে, স্যার। তারা গাড়িতে। তারা সাঁজোয়া গাড়িতে আছে। স্যার, তাদের জীবনে সর্বোচ্চ এক মিনিট সময় আছে, স্যার, ৩০ সেকেন্ড।’ এরপর রীতিমত ক্ষণগণনা করে শোনান ট্রাম্প, ‘১০, ৯, ৮,...তারা শেষ, স্যার।’

সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে স্বীকার করে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘চরম আঘাত’ সোলাইমানির প্রাপ্য ছিল, কারণ ইরানের এ সেনা কর্মকর্তা হাজারো আমেরিকান হত্যার জন্য দায়ী।

আইএইএর বিরুদ্ধে ‘গুরুতর সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার হুমকি ইরানের : যে পরমাণুচুক্তি নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব চরমে, সেটা নিয়ে ইউরোপ অন্যায় আচরণ করলে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতার ব্যাপারে চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণের হুমকি দিয়েছে ইরান। গতকাল রবিবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার আলী লারিজানি বলেন, ‘ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে ইউরোপের তিনটি দেশ যা করল, তা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা স্পষ্ট ঘোষণা দিচ্ছি, কোনো কারণে ইউরোপ যদি পরমাণুচুক্তির ৩৭ ধারার অন্যায় ব্যবহার করে, তাহলে ইরান (জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ) সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার ব্যাপারে গুরুতর সিদ্ধান্ত নেবে।’ বলা দরকার, ইরান পরমাণুচুক্তি মানতে ব্যর্থ হয়েছে বলে গত সপ্তাহে অভিযোগ করেছে পরমাণুচুক্তিভুক্ত তিন ইউরোপীয় দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি।

দুটি স্যাটেলাইট উেক্ষপণের ঘোষণা : ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমের প্রবল আপত্তির মধ্যেই দেশটি দুটি স্যাটেলাইট উেক্ষপণের ঘোষণা দিয়েছে। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এরই মধ্যে শেষ করেছে ইরান। টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ আজারি গতকাল এক টুইট বার্তায় এ কথা জানান এবং এটাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ অ্যাখ্যা দেন। তবে স্যাটেলাইট উেক্ষপণের তারিখ জানায়নি সরকার।

কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি ও পরিবেশবিষয়ক তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। পশ্চিম অবশ্য সব সময় আশঙ্কা করে আসছে, ওই স্যাটেলাইট প্রকল্পের নামে ইরান হয়তো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের দিকে মন দিয়েছে। কারণ স্যাটেলাইট উেক্ষপণে ব্যবহৃত প্রযুক্তি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও কাজে লাগানো যায়। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা