kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

চীনের রহস্যময় ভাইরাস নিয়ে নতুন উদ্বেগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনে সম্প্রতি চিহ্নিত এক রহস্যময় ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। চীন সরকারের হিসাবে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১। তবে যুক্তরাজ্যের গবেষকরা বলছেন, এ সংখ্যা এক হাজার ৭০০ জনের কাছাকাছি। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে দুজন মারা গেছেন। এরই মধ্যে চীনের বাইরে থাইল্যান্ড ও জাপানেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত তিন রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভাইরাসটি এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয়ে নানা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে চীন বলছে, ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষ নয়, প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়েছে।

এ সংক্রমণের কারণে উহান থেকে আসা পর্যটকদের স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করতে শুরু করেছে সিঙ্গাপুর ও হংকং। গত শুক্রবার থেকে একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনটি বিমানবন্দর সান ফ্রানসিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউ ইয়র্কে। অনেকেই ধারণা করছেন, এই ভাইরাসের সঙ্গে সার্স-সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম রোগের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। চীনে উৎপত্তি হওয়ার পর সার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০০২-০৩ সালে বিশ্বে ৭০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

উহানের স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, আক্রান্তদের বেশির ভাগই শহরের একটি সামুদ্রিক বাজারে কাজ করত। এরই মধ্যে ওই এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে। নতুন এই সংক্রমণের কারণ খোঁজার চেষ্টা করছে তারা। এরই মধ্যে সংক্রমণের বেশ কয়েকটি উৎস যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও শ্বাসকষ্টসংক্রান্ত অন্যান্য রোগের সঙ্গে এই ভাইরাসের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে সার্সের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। রোগ প্রাদুর্ভাববিষয়ক ব্রিটিশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক নিল ফেরগুসন ভাইরাসটি সম্পর্কে বলেছেন বলেছেন, ‘বাস্তবিকভাবে আমি এক সপ্তাহ আগের চেয়ে এখন আরো বেশি উদ্বিগ্ন।’ থাইল্যান্ড ও জাপানে ওই ভাইরাসে আক্রান্তের কথা উল্লেখ করে ফেরগুসন বলেন, উহানের ভাইরাসটি অন্য দেশে পাওয়া যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, যা দাবি করা হচ্ছে তার চেয়েও আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেশি হতে পারে।

ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনে ভাইরাসটি নিয়ে কাজ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক সংস্থা এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশিয়াস ডিজিজ অ্যানালিসিস।

ভাইরাসটি এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ছে না বলে চীন দাবি করলেও অধ্যাপক ফেরগুসন মনে করেন, এ ধরনের আশঙ্কা একেবারে উড়ে দেওয়া যায় না। সূত্র ; বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা