kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

খামেনিকে কথাবার্তায় সতর্ক হতে বললেন ট্রাম্প

‘বিমান ভূপাতিত হওয়ায় আমরা যতটা মর্মাহত হয়েছি, শত্রুরা ততটাই খুশি হয়েছে। আমাদের নামে অপপ্রচার চালাতে তারা বিমান দুর্ঘটনাকে একটা হাতিয়ার বানিয়েছে।’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খামেনিকে কথাবার্তায় সতর্ক হতে বললেন ট্রাম্প

সামরিক উত্তেজনা খানিকটা কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ অব্যাহত আছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে কথাবার্তায় ‘সাবধানী’ হতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খামেনি গত শুক্রবার ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চামচা’ বলার পর এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তেহরান-ওয়াশিংটনের বিরোধ গত ৩ জানুয়ারি নতুন মাত্রা পায়। ওই দিন মার্কিন হামলায় নিহত হন ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ৮ জানুয়ারি ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। প্রায় একই সময় তেহরান থেকে উড্ডয়নের পর ইউক্রেনের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ আরোহীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। শুরুতে অস্বীকার করলেও পরে অভিযোগ স্বীকার করে ইরান।

এ অবস্থায় দীর্ঘ আট বছর পর গত শুক্রবার জুমার নামাজে ইমামতি করেন খামেনি। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করেন। খামেনি বলেন, ‘বিমান ভূপাতিত হওয়ায় আমরা যতটা মর্মাহত হয়েছি, আমাদের শত্রুরা ততটাই খুশি হয়েছে। আমাদের নামে অপপ্রচার চালাতে তারা বিমান দুর্ঘটনাকে একটা হাতিয়ার বানিয়েছে।’

জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের কঠোর সমালোচনাও করেন খামেনি। তিনি বলেন, ‘এক বছরের মাথায় এটা এখন প্রমাণিত যে এসব দেশ সত্যিকারার্থেই যুক্তরাষ্ট্রের চামচা।’

খামেনির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের তথাকথিত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, যিনি এখন আর ততটা সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে নিয়ে কিছু বাজে কথাবার্তা বলেছেন।’ খামেনির উদ্দেশে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, তাদের দেশের জনগণ কষ্টে আছে। এ অবস্থায় তাঁর উচিত, কথাবার্তায় সাবধানী হওয়া।’

নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত রাখতে ইরান ২০১৫ সালে যে ছয়টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করে, তাদের মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও আছে। বাকি তিনটি দেশ হলো রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়। সম্প্রতি জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দেওয়া এক চিঠিতে অভিযোগ করে, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করছে। এই লঙ্ঘন চলতে থাকলে তারা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে এই চিঠি দিয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। কারণ ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ইউরোপের গাড়ির ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা