kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আট বছর পর জুমার নামাজে ইমামতি করলেন খামেনি

‘সোলাইমানির মৃত্যুর চেয়ে বিমান দুর্ঘটনা বড় নয়’

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে ১১ সেনা আহত হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের স্বীকারোক্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সোলাইমানির মৃত্যুর চেয়ে বিমান দুর্ঘটনা বড় নয়’

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, তেহরানে যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক হলেও তা কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর চেয়ে বড় নয়। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কয়েকটি রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে বিমান দুর্ঘটনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিমান দুর্ঘটনায় ইরান যতটা মর্মাহত, যুক্তরাষ্ট্র ততটাই আনন্দিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার তেহরানে জুমার নামাজে ইমামতি করার আগে এক ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে গত ৮ জানুয়ারি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে তাদের ১১ সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।

সাধারণত দেশের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মুহূর্তে জুমার নামাজে ইমামতি করেন খামেনি। প্রথা অনুযায়ী, ইমামতি করার সময় জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। খামেনি জুমার নামাজে সর্বশেষ ইমামতি করেন ২০১২ সালে; ইসলামী বিপ্লবের ৩৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে। ওই সময় পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও সংকটে ছিল তেহরান। আর গতকাল এমন এক পরিস্থিতিতে তিনি ইমামতি করলেন, যখন কাসেম সোলাইমানির মৃত্যু নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা চলছে।

এই অস্থিরতা শুরু হয় গত ৩ জানুয়ারি। ওই দিন মার্কিন হামলায় নিহত হন ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ৮ জানুয়ারি ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। প্রায় একই সময় তেহরান থেকে উড্ডয়নের পর ইউক্রেনের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ আরোহীর মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ইরান ও কানাডার শতাধিক নাগরিক ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। শুরুতে অস্বীকার করলেও পরে অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে ইরান জানায়, ‘মানব ত্রুটির’ কারণে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

এই বিষয়ে গতকালের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে খামেনি বলেন, ‘বিমান ভূপাতিত হওয়ায় আমরা যতটা মর্মাহত হয়েছি, আমাদের শত্রুরা ততটাই খুশি হয়েছে। কারণ বিমান দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর একটা হাতিয়ার তারা পেয়ে যায়।’

সোলাইমানির প্রশংসা করে খামেনি বলেন, তিনি নিজের জীবন ও কর্ম ইরানের নিরাপত্তার জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। ‘হাতেগোনা কয়েক শ মানুষ, যারা সোলাইমানিকে অসম্মান জানিয়েছে, তারা কারা? তারা কি ইরানের মানুষ? তারা কি এই রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকা লাখো জনতার কেউ?’

জুমার নামাজের পর কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে তেহরানে পদযাত্রা করেন। ইরানের রিভল্যুশনারি গার্ডসের সমর্থনে এই পদযাত্রা আয়োজন করা হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এত দিন দাবি করে আসছিল, ৮ জানুয়ারি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের কোনো সেনা হতাহত হয়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন বিল আরবান বলেন, বিস্ফোরণের শব্দের তীব্রতায় ১১ সেনা আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা