kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বাণিজ্যযুদ্ধের অবসানের চেষ্টা

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর

ট্রাম্পের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনল এই চুক্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর

বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রায় দুই বছর ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধ শিথিল করতে অবশেষে দুটি দেশ একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। গত বুধবার ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এ চুক্তির ফলে গোটা বিশ্ব বাণিজ্যই হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। প্রধান দুই শক্তির বাণিজ্য লড়াই এত দিন ধরে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চেপে বসেছিল। চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীন মার্কিন পণ্য ক্রয় বাড়াবে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ কালে চীনা পণ্যে যে নতুন শুল্ক বসিয়েছিল, তা অর্ধেকে নামিয়ে আনবে। এর ফলে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক পুরোপুরি উঠছে না বলে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রই লাভবান হচ্ছে।

চীন এ চুক্তিকে ‘উইন উইন’ (দুই পক্ষের সমান জয়) বলে বর্ণনা করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, এটা হতে যাচ্ছে মার্কিন অর্থনীতির ‘রূপান্তর’। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, অভিশংসনের মুখে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এই চুক্তি আশীর্বাদ বয়ে এনেছে।

দুই দেশের এই চুক্তিকে ‘ফেজ ওয়ান’ বা প্রাথমিক চুক্তি বলা হচ্ছে। বাণিজ্যযুদ্ধের পুরোপুরি অবসানের জন্য দুই দেশ আরো কাজ করবে বলে জানিয়েছে। এএফপির মতো, ট্রাম্প চুক্তিটিকে মোমেন্টাস বললেও চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কয়েক লক্ষ কোটি ট্যারিফ আগের জায়গায়ই (ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা) থাকবে। ফলে অতিরিক্ত শুল্ক মার্কিন ভোক্তাদের ঘাড়েই পড়বে।

চুক্তি অনুযায়ী চীনকে ২০১৭ সালের চেয়ে ২০ হাজার কোটির ডলার বেশি পরিমাণে পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব আইন মেনে চলতে হবে। মূলত চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি এবং মার্কিন মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগ থেকেই দুই দেশের মধ্যে প্রায় দুই বছর আগে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ হি এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তাঁর নেতৃত্বেই যুক্তরাষ্ট্র সফর করছে একটি চীনা বাণিজ্য প্রতিনিধিদল।

এই চুক্তি মার্কিন অর্থনীতির ‘রূপান্তর’ ঘটাবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এর একটি হচ্ছে যা আগে কখনোই চীনের সঙ্গে করা হয়নি। এটা (দুই দেশের বাণিজ্যের) স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক বাণিজ্য ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। আজ আমরা একত্রিতভাবে অতীতের ভুলগুলো সংশোধন করছি।’ চুক্তি স্বাক্ষর শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে ধন্যবাদ জানান এবং শিগগিরই চীন সফর করবেন বলে জানান। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিউ হি বলেছেন, ‘সাম্যতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার’ ভেতর দিয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে। তবে এই চুক্তি কিছু শুল্ক কমানো ও চীনে মার্কিন পণ্য আমদানি বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দিলেও দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধের অনেক উৎস অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। এগুলোর সমাধানে আরো আলোচনা দরকার বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম চুক্তিটির পর ‘ফেজ টু’ চুক্তি করতে দুই দেশকে সেটা মোটেও সহজ হবে না।

২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে বাণিজ্যযুদ্ধের সূচনা হয়। এই যুদ্ধ পরস্পরের আমদানি পণ্যের ওপর ৪৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে দেয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির এই বিরোধে বাণিজ্য প্রবাহ বিঘ্নিত হয়, বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়ে এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। সে কারণেই বুধবারের চুক্তি হাঁপ ছেড়ে বাঁচল বিশ্ব অর্থনীতি। সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা