kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

মধ্যপ্রাচ্য সফরে আবে

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে গোটা বিশ্ব হুমকিতে পড়বে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে গোটা বিশ্ব হুমকিতে পড়বে

ইরানের তেহরানে ৮ জানুয়ারি ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল কানাডার অ্যালবার্টা প্রদেশের রাজধানী এডমন্টনে স্যাভিল কমিউনিটি স্পোর্টস সেন্টারে জড়ো হয় শোকগ্রস্তরা। বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ১৭৬ জনের মধ্যে অর্ধশতাধিক কানাডীয় ছিল। ছবি : এএফপি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘর্ষ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নয়, গোটা বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে—এমন মন্তব্য করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। ওই দুই পক্ষের উত্তেজনায় ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে ইরাক। সেখানে তেহরান-ওয়াশিংটন পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের ঘটনা তো ঘটছেই—এবার দেশটির অর্থনীতিতেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। সেদিনের হামলায় ইরানপন্থী ইরাকিগোষ্ঠী হাশেদ আল শাবির ডেপুটি প্রধান আবু মাহদি আল মুহান্দিসও নিহত হন। এ ঘটনার পর ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে প্রায় দুই ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। তাতে আদতে কোনো মার্কিন সেনার প্রাণ গেছে কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে সেদিন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেহরানে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় কোনো সন্দেহ নেই।

মধ্যপ্রাচ্যের এমন গনগনে পরিস্থিতির কারণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবের ওই অঞ্চল সফর নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সফর শুরু করে দেন। পাঁচ দিনের এ সফরে তাঁর সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে যাওয়ার কথা। এর অংশ হিসেবে শনিবার সৌদি আরবে পৌঁছান আবে। পরদিন গত রবিবার তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। এ সময় আবে বলেন, ‘এ অঞ্চলে ইরানসহ যে কারো সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষ বাধলে তাতে কেবল এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নয়, গোটা বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রভাবিত হবে।’ উত্তেজনা নিরসনে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার প্রতি আহবান  জানান।

যুবরাজ সালমানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবের আলোচনার অন্যান্য বিষয়বস্তু সম্পর্কে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাসাতো ওহতাকা জানান, উপসাগরীয় জলসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে—এমন বিষয়ে দুই দেশের নেতার ঐকমত্য হয়েছে। তবে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেবে না জাপান।

ইরাকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা : ইরাককে যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে যেভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র  প্রতিযোগিতায় নেমেছে, তাতে ইরাকের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা সবাই দিশেহারা। মারণাস্ত্রের প্রয়োগ তো চলছেই, তার ওপর ইরাকের অর্থনীতি অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

সোলাইমানি ও মুহান্দিস হত্যাকাণ্ডের পর ইরাকের পার্লামেন্ট ভোটের মাধ্যমে তাদের দেশ থেকে সব মার্কিন সেনা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। আর তাতেই ক্ষেপেছেন ট্রাম্প। তিনি হুমকি দিয়েছেন, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে বলা হলে ‘আমরা এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’

এ ছাড়া ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদির কার্যালয়ে ফোন করেও হুমকি দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে ইরাকের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফোন করে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সরিয়ে দেওয়া হলে নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে আপনাদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র।’ মার্কিন ফেডারেল ব্যাংকে ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই অ্যাকাউন্ট খোলা হয় ২০০৩ সালে। ওই বছরই ইরাকের সেনা শাসক সাদ্দাম হোসেনের পতন ঘটায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ১৪৮৩ অনুসারে ইরাকের জ্বালানি তেল থেকে আসা সব রাজস্ব জমা পড়তে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে। না বললেই নয়, ইরাকের বাজেটের ৯০ শতাংশ অর্থ আসে জ্বালানি রাজস্ব থেকে। এখন যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল ব্যাংক থেকে অর্থ ছাড় বন্ধ করে দিলে ইরাক যে ধসে পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা