kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

এএফপির বিশ্লেষণ

মোদির হিন্দুত্ববাদী নীতিতে ঝুঁকিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক গত দুই দশক ধরেই জোরদার হচ্ছে। মূলত ভারতের আগ্রহ থেকেই স্নায়ুযুদ্ধের শীতলতা থেকে সম্পর্কে উষ্ণতা ফিরতে শুরু করে; এবং অবধারিতভাবেই এর সঙ্গে জড়িয়ে বিশ্বের অন্যতম বড় দুটি গণতান্ত্রিক দেশের স্বার্থ। কূটনৈতিক তো বটেই সামরিকভাবেও সম্পর্কিত হতে থাকে দেশ দুটি। চলমান এই প্রক্রিয়াই সম্প্রতি হোঁচট খেয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর যেভাবে তাঁর হিন্দুত্ববাদী নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন, একে খুব একটা সুনজরে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। প্রকাশ্য সমালোচনা এসেছে। এমনকি ভারতের কয়েকটি রাজ্য সফরের ওপর নাগরিকদের সতর্কও করেছে তারা।

অপ্রত্যাশিত এ পরিস্থিতির মধ্যেই এ সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আগামী বুধবার থেকে সেখানে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের নাগরিকত্ব আইন পাস এবং কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা রদ করার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কে বেশ ভালোই অবনতি ঘটেছে। একটা দীর্ঘ সময় ভারতের মানবাধিকার ইস্যুগুলো নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এবার, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হওয়ার পর, পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, ‘ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশটির প্রতি তাদের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক দূত স্যাম ব্রোনব্যাক বলেন, ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ভারত তাদের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলুক। তবে সরকারের চেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে কংগ্রেস সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রমিলা জয়পাল বিষয়টি নিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যেখানে দিল্লির প্রতি আহ্বান জানানো হয়, ‘কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন প্রত্যাহারের পর যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে সবচেয়ে কঠোর সমালোচনাটি এসেছে ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের কাছ থেকে। তারা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানায়। তাঁকেই এ বিলের প্রধান কুশীলব বলে মনে করা হয়। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা