kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন

হার-জিতের নির্ধারক শেষমেশ ব্রেক্সিটই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি। শেষ খবর অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির চেয়ে ৭৮টি আসন বেশি পেয়েছে তারা। বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে ব্রেক্সিট ইস্যু। সেই সঙ্গে ভোটারদের শ্রেণিগত অবস্থানও অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

নির্বাচনে ব্রেক্সিটের পক্ষ-বিপক্ষের ছাপ

২০১৬ সালের গণভোটে যেসব আসনে ব্রেক্সিটের (যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচ্ছেদ) পক্ষে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল, সেসব আসনে গত সাধারণ নির্বাচনের চেয়ে এবার কনজারভেটিভ পার্টি গড়ে ৬ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছে। আবার গণভোটে যেসব আসনে ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল, সেসব আসনে গত সাধারণ নির্বাচনের চেয়ে এবার কনজারভেটিভ পার্টি গড়ে ৩ শতাংশ কম ভোট পেয়েছে।

অন্যদিকে যেসব আসনে ‘ব্রেক্সিটপন্থী’ হিসেবে পরিচিত, সেসব এলাকায় লেবার পার্টির ভোট ১১ শতাংশ পর্যন্তও কমেছে। আর ব্রেক্সিটবিরোধী এলাকায় তাদের ভোট কমেছে ৫ শতাংশের মতো।

শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত ভোটার

ভৌগোলিক হিসাব বলছে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের শ্রেণিগত অবস্থান বেশ প্রভাব ফেলেছে। মিডল্যান্ডস, নর্থ ইস্ট, ইয়র্কশায়ারে শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা বেশি এবং সেখানকার বেশির ভাগই ব্রেক্সিটের পক্ষে। ফলাফল বলছে, এসব এলাকায় কনজারভেটিভদের সমর্থন গত নির্বাচনের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে লন্ডন ও সাউথ ইস্টের মতো মধ্যবিত্ত অধ্যুষিত এলাকায় কনজারভেটিভ পার্টির জনপ্রিয়তা ১ শতাংশ কমে গেছে। এ ছাড়া স্কটল্যান্ডে তারা আগের চেয়ে ৪ শতাংশ ভোট কম পেয়েছে।

নর্থ ইস্ট ও ইয়র্কশায়ারে লেবার পার্টির ভোট ১২ থেকে ১৩ শতাংশ কমে গেছে। ৬ থেকে ৭ শতাংশ কমেছে লন্ডন ও দক্ষিণাঞ্চলে।

অর্থাৎ শ্রমজীবী অধ্যুষিত এলাকাগুলো লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হলেও এবার সেখানে তাদের সমর্থন কমেছে। যেসব আসনের বেশির ভাগ ভোটারই শ্রমজীবী, সেসব আসনে আগের চেয়ে ১১ শতাংশ কম ভোট পেয়েছে লেবার পার্টি।

সাহসী এসএনপি

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কনজারভেটিভদের যে সাফল্য, স্কটল্যান্ডে একই ধরনের সাফল্য পেয়েছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি)। সেখানকার ৫৯টি আসনের মধ্যে ৪৮টিতে জয় পেয়েছে তারা।

স্কটল্যান্ডের বেশির ভাগ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থেকে যাওয়ার পক্ষে। মূলত ভোটারদের এই মানসিকতাই এসএনপিকে ব্রেক্সিট নিয়ে দ্বিতীয় গণভোটের দাবি তোলার সাহস জুগিয়েছে। কিন্তু বরিস জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি ব্রেক্সিটের পক্ষে। এর ফলে স্কটল্যান্ডে এসএনপির সঙ্গে কনজারভেটিভ পার্টির সাংবিধানিক একটা সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা