kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

করবিনের বাম বিপ্লবের স্বপ্ন অধরাই রইল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করবিনের বাম বিপ্লবের স্বপ্ন অধরাই রইল

বৈশ্বিক সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের স্বপ্ন বুনেছিলেন লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। তাঁর দাবি, নির্বাচনে লেবারের আশাজাগানিয়া ইশতেহার তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিটবিরোধী অবস্থানই কাল হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৩৫ সালের পর দলের সবচেয়ে শোচনীয় পরাজয়ের মুখে এখন তিনি পদত্যাগ করতে চাইছেন।

৭০ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতার কট্টর বামধারার রাজনীতি তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক মাত্রায় গ্রহণযোগ্যতা পায়। তিনি চাইছিলেন কনজারভেটিভ এক দশক ধরে জনগণের যে ‘পকেট কাটছে’ তার বিপরীত ধারার নীতি গ্রহণ করতে। চেয়েছিলেন অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে। নির্বাচনের দিন করবিনকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান আলেকজেন্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ টুইটারে লেখেন, করবিনের স্বপ্ন তরুণদের আকৃষ্ট করেছে, সমর্থন করেছেন সেলিব্রেটিরা।

তবে বৃহত্তর জনসাধারণের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন করবিন। পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক করেছে তাঁর ব্রেক্সিটবিরোধী অবস্থান। এর সঙ্গে ইহুদিবিরোধিতা ও সন্ত্রাসের প্রতি সহানুভূতির অভিযোগও তাঁকে নাকাল করেছে। ফলে কনজারভেটিভরা সহজেই লেবারকে নাকানিচুবানি দিতে পেরেছে।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার শুরুর দিকে ব্লিথ ভ্যালির ফল লেবারকে পীড়া দেয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এ আসনটিকে ৫০ বছর ধরে লেবারের জন্য নিরাপদ আসন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সেই আসনটিই ছিনিয়ে নেয় কনজারভেটিভরা।

২০১৫ সালে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে করবিন বামধারার রাজনীতির নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন। ২০১৭ সালের নির্বাচনে পানি, বিদ্যুৎ, রেলওয়েসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অভিনব ইশতেহার ঘোষণা করেন। এবারের নির্বাচনে করবিন আরো উদার ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন।

জেরেমি করবিন ১৯৮৩ সাল থেকে লন্ডনের ইজলিংটন আসনের এমপি। এবারের নির্বাচনেও তিনি বড় ব্যবধানে বিজয় পেয়েছেন। বিজয়ী ভাষণে করবিন নিজ আসনের ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যে ফলাফলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা হতাশাজনক। এ নির্বাচনে লেবার যে ইশতেহারের দিয়েছে সেটি আশাজাগানিয়া, কল্যাণমূলক ও বৈষম্য দূরীকরণের জন্য। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্ব যে হুমকির মুখে পড়েছে তা মোকাবেলার জন্য অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর কথা বলেছে লেবার। এসব ইশতেহার মানুষ পছন্দও করেছে। তবে ফলাফলের ইঙ্গিত থেকে এটা স্পষ্ট, সব ছাপিয়ে মানুষের মনে ব্রেক্সিট ইস্যু আধিপত্য বিস্তার করেছে।

লেবার দলীয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মন্ত্রিসভার সদস্য অ্যান্ড্রু অ্যাডনিস বলেন, ‘মূলত এ নির্বাচনটি ছিল করবিনের ওপর গণভোট।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা