kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রেক্সিট জটিলতা কি শেষ হবে?

নিয়মানুযায়ী আগামী জানুয়ারিতে ব্রেক্সিট কার্যকর ঘোষণা করা হলে তখন থেকে ইইউ-ব্রিটেন সম্পর্কের অন্তর্বর্তী পর্যায় শুরু হচ্ছে, যেটার মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের বাণিজ্য, অর্থনীতি, নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে সম্পর্ক চূড়ান্ত করতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রেক্সিট জটিলতা কি শেষ হবে?

ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল বক্তব্য দেন কনজারভেটিভ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ছবি : এএফপি

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি। এবার ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করিয়ে নিতে আর হয়তো বাধা পাবেন না জনসন। পার্লামেন্ট ব্রেক্সিট চুক্তিতে অনুমোদন দিলে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু তাতেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? বিশ্লেষকদের অভিমত অবশ্য তেমন নয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ নিশ্চিত করার জন্য যে জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, আগামী ৩১ জানুয়ারি ব্রেক্সিট কার্যকরের পর সেই প্রক্রিয়ার মাত্র এক ধাপ অগ্রগতি হবে। এরপর পাড়ি দিতে হবে আরো জটিল পথ এবং সে জন্য সময় খুব বেশি নেই।

নিয়মানুযায়ী আগামী জানুয়ারিতে ব্রেক্সিট কার্যকর ঘোষণা করা হলে তখন থেকে ইইউ-ব্রিটেন সম্পর্কের অন্তর্বর্তী পর্যায় শুরু হচ্ছে, যেটার মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ইইউর সঙ্গে ব্রিটিনের বাণিজ্য, অর্থনীতি, নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে সম্পর্ক চূড়ান্ত করতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস করাতে তো হবেই, পাশাপাশি ইইউর সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনেরও প্রয়োজন হবে।

এসব কার্যক্রমের প্রতিটি পর্যায়ের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে। সেটা মানার জন্য ব্রিটেন যদি জোরেশোরে কাজ শুরু করে, তাতেও ইইউর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে হতে আগামী মার্চ চলে আসবে। এর চার মাসের মধ্যে অর্থাৎ আগামী জুনের মধ্যে দুই পক্ষকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে হবে। আসলে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেটা আরেক জটিলতা।

ব্রিটেন ব্রেক্সিট-পরবর্তী অন্তর্বর্তী পর্যায়ের সময়সীমা বাড়াবে নাকি চুক্তিবিহীন অবস্থায় চূড়ান্ত বিচ্ছেদ নিশ্চিত করবে, সেটার ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি। জনসন যদিও অন্তর্বর্তী পর্যায়ের সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দিয়েছেন, তার পরও আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এর কারণ ব্যাখ্যায় বিশ্লেষকরা জানান, ইইউ-ব্রিটেন একটা চুক্তিতে পৌঁছলে তাতে ইইউ এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্ট উভয়ের অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। আর আগামী জুনের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে ব্রিটেনকে চুক্তিবিহীন অবস্থায় অন্তর্বর্তী পর্যায় শেষ করে ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সেটা না হলে প্রধানমন্ত্রী জনসনকে অন্তর্বর্তী পর্যায়ের সময় বাড়ানোর জন্য ইইউর কাছে আবেদন করতে হবে।

মুশকিলটা হলো, এত কম সময়ে এত জটিল প্রক্রিয়া শেষ করা খুব দুরূহ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তা ছাড়া এত কম সময়ে ইইউর সঙ্গে অন্য কোনো দেশের এত বড় পরিসরে চুক্তি স্বাক্ষরের নজিরও নেই।

বলে রাখা দরকার, ব্রিটেন শুধু বাণিজ্যচুক্তি করলেই ব্রেক্সিট জটিলতার অবসান হবে না। এত দিন ধরে ব্রিটেনে জোটবদ্ধ থেকে যেসব সহযোগিতা চুক্তির সুবিধা ভোগ করছিল, সেসব বিষয়েও উভয় পক্ষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা