kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

হাউসের বিচার বিভাগীয় কমিটি

ট্রাম্পকে অভিশংসনে বিতর্ক শুরু

নির্দোষ প্রমাণে ভোটের তোড়জোড় সিনেটে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ক্রমেই স্বৈরাচারী হয়ে উঠছেন। তবে রিপাবলিকানদের দাবি, প্রমাণহীন ও অর্থহীন বিতর্কে সময় নষ্ট করছে ডেমোক্র্যাটরা। বাস্তবতা হচ্ছে, তাঁরা এখনো ২০১৬ সালের পরাজয়ই মেনে নিতে পারেনি।

সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থানে দাঁড়িয়ে বুধবার ট্রাম্পের অভিশংসনের বিতর্ক শুরু হয়। নিয়মানুযায়ী এই প্রস্তাব প্রথমে বিচার বিভাগীয় কমিটিতে পাস হবে। তারপর উঠবে পূর্ণ হাউসে। যদিও ডেমোক্রেটিক সংখ্যাগরিষ্ঠ হাউসে এই প্রস্তাবের ভাগ্য নিশ্চিত প্রায়। সাধারণ হিসেবে এই প্রস্তাব আটকে যাওয়ার কথা সিনেটে। বিধান রয়েছে, হাউসে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলে সিনেটে বিচার শুরু করা বাধ্যতামূলক। এরপর ১০০ সদস্যের সিনেটে অন্তত ৬৭ সদস্যের সমর্থন পেতে হবে প্রস্তাবটিকে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে সে সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। তবে সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেল বিচার প্রক্রিয়া পর্যন্ত যেতে রাজি নন। তার আগেই দলীয় প্রেসিডেন্টকে রক্ষায় ভোটাভুটির আয়োজনের চেষ্টা করছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই রিপাবলিকান সিনেটরের মতে, ম্যাককনেলের সামনে দুটি পথ খোলা আছে—ট্রাম্পকে বিচারের সম্মুখীন করে শুনানি শুরু অথবা অভিশংসনের যে দুটি ধারা উপস্থাপন করা হয়েছে তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটাভুটির আয়োজন। সে ক্ষেত্রে ৫১ সদস্যের সমর্থন থাকাই যথেষ্ট। আর সিনেটে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা ৫৩।

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ট্রাম্পের অভিশংসনের বিল উঠার কথা আগামী সপ্তাহে। আর সিনেটে যাবে আগামী মাসে। এর আগে গত বুধবার থেকে হাউসের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে বিতর্কের জন্য উঠে প্রস্তাবটি। অব্যাহত থাকে গতকালও। প্রস্তাব তোলার সময় কমিটির চেয়ারম্যান জেরি নাডলার বলেন, ‘ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের যে দুটি ধারা প্রকাশ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে আজ থেকে বিবেচনা শুরু হবে। এই দুই ধারায় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে এবং সরকারি দপ্তরের জবাবদিহিতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট প্রথমে তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তারপর কংগ্রেসের তদন্তের সব অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ পরিস্থিতে নির্বাহীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার যে দায়িত্ব কংগ্রেসের রয়েছে তা পূরণে তারা সক্ষম হচ্ছে না। এবং এভাবে ক্রমেই স্বৈরাচারী হয়ে উঠছেন প্রেসিডেন্ট।’

রিপাবলিকানরা নাডলারের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলে, ডেমোক্র্যাটরা পারলে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসেই ট্রাম্পকে অভিশংসন করত। সে সময়ই ক্ষমতায় আসেন ট্রাম্প। জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান ডগ কলিন্স বলেন, ‘ভুয়া কথাবার্তা বলছে ডেমোক্র্যাটরা। যেকোনো কিছু নিয়েই ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ তোলা যায়। এগুলো অভিশংসনের ধারায় আসতে পারে না।’ সূত্র: সিএনএন, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা