kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রেক্সিট সংকট মিটবে না

সিএনএনের বিশ্লেষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রেক্সিট ইস্যুতে অস্থির ব্রিটেনে আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের আহ্বানে আয়োজিত এ আগাম নির্বাচনে কে জিতবে—এ প্রশ্ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনের পর আদৌ ব্রেক্সিট অচলাবস্থার নিরসন ঘটবে কি না, সে প্রশ্ন।

নির্বাচনী জরিপ বলছে, আজকের ভোটে করজারভেটিভদের জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, যদিও দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন নিয়ে পর্যবেক্ষকরা সন্দিহান। এ সন্দেহ নিরসন করে দলটি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তবে জনসন অঙ্গীকার পূরণের সুযোগ পেয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে করা ব্রেক্সিট চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস করিয়ে নিতে পারবেন। এরপর তিনি অনায়াসে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করবেন।

জটিলতা সৃষ্টি হবে ব্রেক্সিট-পরবর্তী ‘অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়’ নিয়ে, যার সময়সীমা ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায় শেষে ব্রিটেনের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন হবে, তা এ সময়ের মধ্যেই জনসনকে চূড়ান্ত করতে হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে কনজারভেটিরা খুব অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ব্রেক্সিট-পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে জনসনকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। কারণ দলের ইইউবিরোধী নেতাদের যদি সন্দেহ হয় যে জনসন ইইউর মর্জিমতো চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করছেন, তবে তাঁরা অবশ্যই পার্লামেন্টে বাধা দেবেন।

এবার আসা যাক জেরেমি করবিনের লেবার পার্টির প্রসঙ্গে। লেবারদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে—তেমনটা মাথায় রেখেই বিশ্লেষকরা বলছেন, করবিনের অধীনে ব্রিটেনের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক সহজ হওয়ার যে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, তাতে কোনো বাস্তবতা নেই। লেবাররা ইইউর সঙ্গে কাস্টসম ইউনিয়ন করার যে কথা বলছে, সে ব্যাপারে ইউরোপের দিক থেকে কেমন প্রস্তাব আসতে পারে, তা নিয়ে কারো কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। এর পরও যদি ধরে নেওয়া যায়, করবিন ইইউর সঙ্গে চুক্তি করেই ফেলেছেন, এমনকি সংখ্যালঘু সরকার নিয়ে লেবাররা ওই চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস করিয়ে ফেলেছে, তাতেও সংকটের পুরো সমাধান হচ্ছে না। কেননা করবিন ওই চুক্তির ওপর গণভোট করবেন এবং সেটার ফলাফল সম্পর্কেও কারো কোনো ধারণা আপাতত নেই।

এমন দোটানা কারো কাম্য নয়, অন্তত ইইউ মোটেই এ অবস্থায় থাকতে চায় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইইউ কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ব্রিটেন জোটে থাকবে কী থাকবে না, তা স্পষ্ট জানতে চায় ইইউ। কিন্তু আজকের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের সে চাওয়া পূরণ হবে, তেমন সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা