kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নাগরিকত্ব বিল

অমিত শাহর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চাইল মার্কিন কমিশন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ভারতের লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) সোমবার পাস করিয়ে নেওয়ার পর ঘরে-বাইরে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে। ওই বিলে ধর্মীয় বৈষম্যকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতা-মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাসংক্রান্ত কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ওই বিলে নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় মানদণ্ড বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সোমবারই সংগঠনের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করেছেন, তাতে ধর্মীয় মানদণ্ড বেঁধে দেওয়ায় ইউএসসিআইআরএফ ভীষণ উদ্বিগ্ন। সংসদের দুই কক্ষে বিলটি যদি পাস হয়ে যায়। তাহলে অমিত শাহসহ সে দেশের অগ্রগণ্য নেতাদের ওপর  নিষেধাজ্ঞা চাপানো উচিত মার্কিন সরকারের।’

সোমবার মধ্যরাতে বিলটি লোকসভায় পাস হয়। এখন এটি রাজ্যসভায় পাস হওয়ার অপেক্ষায়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও সেখানেও বিলটি পাস করিয়ে নেওয়া যাবে বলে আত্মবিশ্বাসী মোদি সরকার।

ইউএসসিআইআরএফের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড়, যা ভুল পথে এগোচ্ছে। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ, বহুত্ববাদী ইতিহাস এবং সে দেশের সংবিধান, যা কি না ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার সমানাধিকারের কথা বলে, এই বিল তার পরিপন্থী।’ এর আগে আসামে অসমে নাগরিক পঞ্জি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ইউএসসিআইআরএফ। ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিমদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে সেই সময় দাবি করেছিল তারা। নাগরিক সংশোধনী বিল নিয়েও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওই সংগঠন। তাদের দাবি, ‘আমাদের আশঙ্কা, নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরীক্ষা নিচ্ছে ভারতীয় সরকার, যা কি না কয়েক কোটি মুসলিমের নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেবে।’ গত এক দশকে ধর্মীয় বৈষম্য নিয়ে তাদের বার্ষিক রিপোর্টকে ভারত সরকার কোনো রকম গুরুত্ব দেয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার টুইটারে একটি বিবৃতি পোস্ট করে লেখেন, ‘ইউএসসিআইআরএফের দাবি সম্পূর্ণ ভুল। পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্য করেছে তারা। বিষয়টি সম্পর্কে ভালোমতো ওয়াকিবহালও নয় তারা। এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের অধিকারও নেই ওদের।’ সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা