kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

এক দিন পর ভোট

যুক্তরাজ্যের হাল ধরবেন করবিন!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাজ্যের হাল ধরবেন করবিন!

যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন আশা করছেন এ সপ্তাহের নির্বাচনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারবেন। যদিও ব্রিটিশ রাজনীতিতে ব্যক্তি করবিনের ভূমিকা নিয়ে আলাদা কোনো বিশেষ আলোচনা খুব একটা শোনা যায় না। ধীর-স্থির স্বভাবের নীতিবাগীশ এই মানুষটি ব্রেক্সিট ইস্যুতে আগাগোড়াই নিরপেক্ষ অবস্থান অবলম্বন করেন।

৭০ বছর বয়সী করবিন পারিবারিকভাবেই বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রচার অস্ত্র—ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে দেশে যে বিভক্তি রয়েছে তার ইতি টানা। তাঁর পরিকল্পনা, আবারও গণভোটের আয়োজন করবেন তিনি। যেখানে জনগণ চাইলে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকে যাওয়ার সুযোগ পাবে। আর যদি তা সম্ভব নাই হয়, তাহলে ইইউর সঙ্গে নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে নমনীয় ব্রেক্সিট নিশ্চিত করবেন তিনি।

পাশাপাশি তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের অর্থনীতিতে গতি আনা, পরিষেবাগুলোর জাতীয়করণ এবং সরকারি খাতে অর্থ সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এর সঙ্গেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সমালোচনা। লেবার পার্টির দাবি, জনসনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। নির্বাচিত হলে জনসন স্বাস্থ্যসেবা খাতে ট্রাম্পের পরামর্শ মতো ‘ব্রেক্সিট-পরবর্তী চুক্তির’ আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবেন। যদিও ট্রাম্প ও জনসন দুজনই বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। কিন্তু লেবার পার্টির এ দাবি একেবারে বাতিল করে দেয়নি ভোটাররা।

যদিও করবিনের মূল সংকট এর মাধ্যমে দূর হবে না। তাঁর সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ ব্রেক্সিটপন্থী ভোটারদের একত্র করা, পুরনো লেবার সমর্থকদের সমর্থন পুনরুদ্ধার, রক্ষণশীল ও লিবারেল ডেমোক্রেটিকদের সমর্থকদের মন ঘোরানো। যে কাজ মোটেই সহজ হবে না। আর আগামী বৃহস্পতিবারের ভোটকে সামনে রেখে সময়ও খুব বেশি নেই।

করবিনের অবশ্য এর চেয়ে বড় সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগ রয়েছে। প্রচার চলাকালে যুক্তরাজ্যে এক ইহুদি যাজক ‘করবিন ভালো প্রধানমন্ত্রী হবেন না’ বলেও সতর্ক করেন। পরে বিবিসিতে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে করবিনের প্রতি ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানানো হয়। তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। বহু ভোটার করবিনের এ অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এ ঘটনার পর লেবার পার্টির সমর্থক রাজনৈতিক সাময়িকী নিউ স্টেটসম্যান করবিনের প্রতি তার সমর্থন প্রত্যাহার করে। ১৯১৩ সালের পর থেকে এ ঘটনা এই প্রথম ঘটল।

ব্রিটেনে এর আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালে সেবার ৪০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছিল লেবার পার্টি। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ে তারা মাত্র ২.৪ শতাংশ ভোটে পিছিয়ে ছিল। করবিন আশা করছেন, এবার এ ব্যবহার ঘুচিয়ে দেবেন তিনি। যদিও বলা হয়ে থাকে সেবারের কৃতিত্বের পিছে করবিনের অবদান যতটা তার চেয়ে সে সময়ের টোরি প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের দায় অনেক বেশি ছিল। সূত্র : এএফপি।   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা