kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

তেলেঙ্গানায় ধর্ষণ মামলার চার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

কেউ বলছে, ঠিক কাজ কারো মতে অন্যায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেউ বলছে, ঠিক কাজ কারো মতে অন্যায়

ভারতে তেলেঙ্গানায় এক ভেটেরিনারি চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার আসামি গতকাল পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ায় হায়দরাবাদের কাছে শাদনগরে উল্লসিত জনতা। ছবি : এএফপি

ভারতের তেলেঙ্গানায় এক ভেটেরিনারি চিকিৎসককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। তেলেঙ্গানা পুলিশের ভাষ্য, গতকাল শুক্রবার ভোরে আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটে। বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনায় ভারতজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, আসামিদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আবার অনেকেই মনে করেন, দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার স্বার্থে পুলিশ সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে।

গত ২৮ নভেম্বর সকালে তেলেঙ্গানার শামশাবাদের একটি কালভার্টের নিচ থেকে ওই চিকিৎসকের আধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগের দিন রাতে ওই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করে চার অভিযুক্ত। এরপর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে পুড়িয়ে ফেলা হয় মরদেহ। এ ঘটনায় ভারতজুড়ে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হয়।

এ অবস্থায় গতকাল তেলেঙ্গানা পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনা তদন্তের অংশ হিসেবে শুক্রবার ভোরে চার আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পথে আসামিরা পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালালে চার আসামির মৃত্যু হয়।

বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনায় ভারতজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বলেন, ‘১০ দিন হলো আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ এবং সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাই। মেয়ের আত্মা এখন অবশ্যই শান্তি পেয়েছে।’

বিবিসির খবরে বলা হয়, বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে ভারতে প্রায় তিন লাখ টুইট হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই পুলিশের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মধ্যে ২০১২ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়া তরুণী নির্ভয়ার মা আশা দেবীও আছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় যেন তাঁর ক্ষতে মলমের প্রলেপ লেগেছে। তাঁর কথায়, ‘পুলিশ যে ওদের এভাবে শাস্তি দিয়েছে, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। পুলিশকর্মীরা খুব ভালো করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে যাতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, আমি সে দাবি জানাচ্ছি।’

‘বন্দুকযুদ্ধকে’ স্বাগত জানানোর কারণ হিসেবে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন আদালতে বহু মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আটকে আছে। এর মধ্যে ধর্ষণের মামলা আছে দেড় লাখের মতো। বিলম্বিত এই বিচারব্যবস্থার কারণে অনেকেই ন্যায়বিচার পাওয়ার আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। ২০১২ সালের নির্ভয়ার ঘটনার পরও দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু ওই মামলার বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি। এসব কারণে গতকালের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় হায়দরাবাদে অনেকেই আনন্দ মিছিল করেছে। অনেকেই করেছে মিষ্টি বিতরণ।

এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে ভারতের রাজনীতিকদের মধ্যেও। পুলিশের নিন্দা জানিয়ে বিজেপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মেনকা গান্ধী বলেন, ‘যা হয়েছে, তা এ দেশের জন্য ভয়ানক। চাইলেই যাকে খুশি এভাবে মারতে পারেন না আপনি। আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। আদালতে তো ওদের ফাঁসিই হতো।’

কলকাতার সাবেক পুলিশ কমিশনার গৌতম মোহন চক্রবর্তী মনে করেন, ‘অভিযুক্তরা যদি পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করে, তাহলে ঠিকই আছে। তবে এই মুহূর্তে ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছে, তেমনভাবেই দেখা উচিত। কারণ এরপর তো গোটা ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হবে।’

পুলিশের প্রশংসা করেছেন বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী। তাঁর মতে, ‘যেসব পুলিশকর্মী এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের সবাই প্রশংসার যোগ্য। আমি নিশ্চিত অন্য রাজ্যের পুলিশও এমন কোনো উপায় বের করবে, যাতে অপরাধীদের উচিত শিক্ষা মেলে।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া যায় না। দ্রুত চার্জশিট দিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’ সূত্র : বিবিসি, আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা