kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

লেবাননে পম্পেও-নেতানিয়াহু বৈঠক

‘নড়বড়ে’ ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চান নেতানিয়াহু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘নড়বড়ে’ ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চান নেতানিয়াহু

ইরান সরকারকে ‘নড়বড়ে’ অ্যাখ্যা দিয়ে তাদের ওপর চাপ আরো বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

লিসবনে অবস্থানকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি মনে করি, ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে চাপ বজায় রাখার যে নীতি প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্প অব্যাহত রেখেছেন, তা আমাদের জন্য সৌভাগ্যজনক। ইরানের আগ্রাসন বাড়ছে, কিন্তু এর সাম্রাজ্য নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। আর আমি বলতে চাই, ওটাকে আরো নড়বড়ে হয়ে যেতে দিন।’

পম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরানই ছিল একমাত্র বিষয়, এমনটা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু টুইটারে জানান, তাঁরা ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ইরানের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী প্রভাব বিস্তার মোকাবেলা করার উপায়, ওই অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্ব এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক অন্যান্য ইস্যু নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

এ ছাড়া লিসবন ত্যাগের প্রাক্কালে নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের জানান, বাগদাদ ও বৈরুতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভ চলা অবস্থায় কী করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, সেটা ছিল লন্ডনে ন্যাটো সম্মেলনের শেষভাগের আলোচনার অন্যতম ইস্যু। দুই দিনব্যাপী সম্মেলনটি গত বুধবার শেষ হয়। 

ইসরায়েলের ইরান বিরোধিতায় কোনো রাখঢাক নেই। পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলের নেওয়ার শর্তে ২০১৫ সালে দেশটি ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে যে চুক্তি করে, শুরু থেকেই সেটার বিরোধিতা করে আসছে ইসরায়েল। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসায় তাঁকে স্বাগত জানায় ইসরায়েল সরকার।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বজায় রাখার জন্য ইউরোপ আলাদা চুক্তি করায় ওই অঞ্চলের সরকারগুলোর সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের সরকারপ্রধান নেতানিয়াহু। গত বুধবার পম্পেওর সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেদের নিয়ে তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। তেহরানের রাস্তায় মানুষ যেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে আর মরছে, সেখানে তারা ওই অত্যাচারী সরকারকে রসদ জোগাচ্ছে এবং সমর্থন দিচ্ছে।’

ইরান প্রশ্নে ইউরোপ আলাদা অবস্থান নিলেও মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রটি বিশ্বাস করে, তারা ইরানের অর্থনীতির ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছে। এ চাপে পড়েই ইরান সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে, যার কারণে ইরানের মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। শুধু দেশের ভেতরেই নয়, প্রতিবেশী ইরাক ও লেবাননেও ইরানবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ওই দুই দেশে সব সময় প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট ইরান। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা