kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

গোয়েন্দা কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ

অভিশংসন প্রশ্নে ট্রাম্পেও বিরুদ্ধে বহু প্রমাণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভিশংসন প্রশ্নে ট্রাম্পেও বিরুদ্ধে বহু প্রমাণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন করার মতো বহু এবং শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। অভিশংসনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করার প্রশ্নে কয়েক মাস ধরে শুনানির পর গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটি। এ নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের অনুচ্ছেদ অনুসারে অভিযোগ আনা হবে কি না, তা নিয়েও গতকাল বুধবার থেকে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনে ডেমোক্রেটিক নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে কুৎসা রচনার জন্য ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ট্রাম্প চলমান তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহায়তা না করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন এমন অভিযোগও করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস অবশ্য এই প্রতিবেদনকে ‘একতরফা লজ্জাজনক প্রক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করে বাতিল করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি স্টেফানি গ্রিশাম বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা অন্যায় তৎপরতার কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। এই প্রতিবেদনে তাঁদের হতাশাই প্রকাশ পেয়েছে। একই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ট্রাম্প নিজেও। তিনি ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা রাজনৈতিক খেলা খেলছেন। অভিশংসন ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।’

ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন হাউসের গোয়েন্দা কমিটিতে গত মঙ্গলবার ১৩-৯ ভোটে এই প্রতিবেদনটি গৃহীত হয়। ৩০০ পৃষ্ঠার এই নথি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। গোয়েন্দা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থকে জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। বিষয়টি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘ট্রাম্প ও তাঁর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হয়তো প্রেসিডেন্টের দপ্তরকে ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহার করার মধ্যে খারাপ কিছু দেখেননি। তবে এই সমস্যা সমাধানের জন্য দেশের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা একটি পদ্ধতির কথা বলে গেছেন, অভিশংসন।’

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই অবশ্য ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি নিজেদের ১২৩ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, মৌলিকভাবে প্রেসিডেন্ট যেভাবে কাজ করেছেন, যে ভাষায় কথা বলেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত নই। তবে ডেমোক্র্যাটরা যেসব সাক্ষীকে হাজির করেছেন তাঁদের কেউই ঘুষ, চাঁদাবাজি বা এ ধরনের বড় কোনো অপরাধের প্রমাণ দিতে পারেননি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ২৬ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ফোন করে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতাপ্রত্যাশী জো বাইডেনের ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য চাপ দেন। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়। দুই ক্ষেত্রের ইউক্রেনকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ কোটি ডলারের সহায়তা টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বলা হয়, ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে না নিলে এই সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এক হুইসেল ব্লোয়ার টেলিফোনে আলাপের বিষয়টি ফাঁস করে দিলে গত আগস্ট থেকে এ নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এই তদন্তের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্ত শুরু করা উচিত কি না, তা নির্ধারণ।

অভিশংসন প্রশ্নে এ মাসেই হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ভোটাভুটি হবে। এখানে সহজেই ডেমোক্র্যাটদের জয় হলেও আগামী মাসে সিনেটর ভোটে তাঁরা আটকে যাবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও অ্যান্ড্রু জনসন এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যান। হাউসে পাস হলেও সিনেটে তাঁদের বিরুদ্ধে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যায়নি। সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা