kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রতিবেদন

এই দশকেই সবচেয়ে বেশি গরম

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা চলতি দশকেই (২০১০-১৯) সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিজ্ঞানীরা ‘প্রায় নিশ্চিত’ হয়েছেন। আর চলতি বছরের গড় তাপমাত্রা দ্বিতীয় বা তৃতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণায়নের বছর হিসেবে রেকর্ড হতে চলেছে। গত অক্টোবর পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডাব্লিউএমও)।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা রেকর্ডের ক্ষেত্রে প্রাক-শিল্প যুগের ১৮৫০ সালের তাপমাত্রাকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। সে সময়ের তুলনায় তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। আর ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের গড় তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সময়কালে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা বেড়েছে। এ অত্যধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যাপক মাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকে দায়ী করা হয়েছে।

চলতি বছর বিশ্বের বেশ কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লম্ফন ঘটেছে। দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়ায় তাপমাত্রা বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। আবার উল্টো ঘটনার নজিরও আছে; উত্তর আমেরিকা আগের তুলনায় নিরুত্তাপ হয়েছে।

গত জুন ও জুলাইয়ে ইউরোপে বড় ধরনের দুটি তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। ২৮ জুন ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ফ্রান্সে। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও যুক্তরাজ্যে। অন্যদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙার ঘটনা ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ায়। ২০১০ সালের পর এ বছরই বনে সর্বাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ আমেরিকায়।

বৈশ্বিক তাপমাত্রার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মানবসৃষ্ট বেশ কিছু কর্মকাণ্ড সরাসরি দায়ী বলে মনে করছে ডাব্লিউএমও। যেমন গাড়ির ধোঁয়া, বন উজারকরণ, কয়লা পোড়ানোর মতো ঘটনা। রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে চলতি দশকে প্রাণ-প্রতিবেশেও বেশ প্রভাব পড়েছে। ১৯৯৩ সালের স্যাটেলাইট চিত্রের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে বরফ গলার হার ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রবণতা ব্যাপকহারে ত্বরান্বিত হয়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানাচ্ছে ডাব্লিউএমও। ফলস্বরূপ সমুদ্রের পানি আরো এসিডিক হয়ে উঠছে; সামুদ্রিক তাপপ্রবাহও দেখা মিলছে অহরহ।

ডাব্লিউএমওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে এক কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। শুধু ঝড়, বন্যা ও খরার কারণেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৭০ লাখ। চলতি বছর নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২২ লাখে পৌঁছাবে। 

ডাব্লিউএমওর মহাসচিব পেট্টেরি টালাস বলেন, প্রতিদিন আবহাওয়া যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা ভয়ংকর ও অস্বাভাবিক রূপ নিচ্ছে। ২০১৯ সালে এসে আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি খুবই কঠিনতর হয়েছে। ফলে তাপপ্রবাহ ও বন্যার মতো দুর্যোগ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। প্রাণীদের বাস্তুচ্যুতির হারও ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে।

সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা