kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

‘ধর্ষণ’ নিয়ে উত্তাল ভারতের পার্লামেন্ট

দোষীদের প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারা উচিত : জয়া বচ্চন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দোষীদের প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারা উচিত : জয়া বচ্চন

তেলেঙ্গানায় পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে গতকাল ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ করে সাধারণ মানুষ। ছবি : এএফপি

ভারত আবার ধর্ষণ নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই ইস্যু উত্তাপ ছড়াচ্ছে যেমন পার্লামেন্টের দুই কক্ষে, তেমনই সড়ক-জনপথগুলোতে। গতকাল সোমবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় দাবি ওঠে, ধর্ষকদের প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারার। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেসব দোষী সর্বোচ্চ শান্তি পায়নি তাদের জেল থেকে ছাড়ার আগে খোঁজা করে দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। পুরো পরিস্থিতি ২০১২ সালের নির্ভয়াকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়।

এবারের ঘটনাস্থল তেলেঙ্গানা। গত ২৮ নভেম্বর গণধর্ষণের পর ২৭বছর বয়সী এক পশু চিকিৎসককে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়। যদিও ধর্ষণ ভারতে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সরকারি হিসাবেই ২০১৭ সালে ৩৩ হাজার ৬৫৮ জন নারী ধর্ষিত হন। গড়ে প্রতিদিন ৯২ জন করে। ২০১২ সালে দিল্লিতে তরুণীকে ধর্ষণের পর এসংক্রান্ত আইন কঠোর করা হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গতকাল রাজ্যসভায় জানান, কঠোর আইন দিয়েও দেশের সামগ্রিক চিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মন্ত্রী জানান, সরকার আইন আরো কঠোর করার জন্য আলোচনায় প্রস্তুত।

রাজ্যসভায় গতকাল এসংক্রান্ত আলোচনা শুরু করেন সমাজবাদী পার্টির এমপি ও অভিনেত্রী জয়া বচ্চন। তিনি বলেন, ‘দোষীদের প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারা উচিত।’ রাজ্যসভায় বক্তব্যের সময় কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন জয়া। ধরা গলায় বলতে থাকেন, ‘আমি জানি না, কতবার এই ধরনের অপরাধের বিষয়ে কথা বলতে উঠেছি। আমি মনে করি, এবার সময় এসেছে। নির্ভয়া হোক বা কাঠুয়া কিংবা তেলেঙ্গানা—মানুষ চায়, সরকার এর সঠিক ও নির্দিষ্ট জবাব দিক। আমি মনে করি, এটাই আদর্শ সময়।’ তিনি আরো বলেন, ‘কখনো গোমাংস নিয়ে যাওয়া, কখনো চোর বা শিশুচোর সন্দেহে, কোথাও আবার জয় শ্রীরাম না বলায় গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময় তোলপাড় হয়েছে দেশ।’  কংগ্রেসের  গোলাম নবি আজাদের যুক্তি, শুধু পার্লামেন্ট বা বিধানসভায় নয়, সর্বত্র এ নিয়ে সচেতনতার প্রচার হওয়া দরকার। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডুও ঘটনার নিন্দা করেন।

লোকসভাতেও গতকাল ধর্ষণ-খুন নিয়ে সরব হন বিরোধীরা। ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) সদস্য সুপ্রিয়া সুলে বলেন, ‘লজ্জায় আমার মাথা কাটা যাচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা উচিত নয়।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এ সময় আইন আরো কঠের করার জন্য আলোচনার প্রস্তাব দেন। পরে স্পিকার আলোচনার এ প্রস্তাবে সায় দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য  করেননি।

গত বুধবার ওই তরুণী পশু চিকিৎসকের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই ভারতজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। হায়দরাবাদের শামমাবাদে এমনই এক প্রতিবাদসভায় গতকাল এক তরুণীকে ‘কোনো মিডিয়া নয়, পুলিশ নয়, বাইরের কেউ নয়—সমবেদনা চাই না। ব্যবস্থা চাই, বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সূত্র : বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা