kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

যুক্তরাজ্যে আগাম নির্বাচন

স্বাস্থ্যসেবা ও ব্রেক্সিট নিয়ে জনসন-করবিনের বচসা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্যসেবা ও ব্রেক্সিট নিয়ে জনসন-করবিনের বচসা

আগাম নির্বাচনের ময়দানে নেমে গত মঙ্গলবার মুখোমুখি হন কনজারভেটিভ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং লেবার নেতা জেরেমি করবিন। এ দুই নেতা এদিন জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) ও ব্রেক্সিট ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক করেন।

এনএইচএস ইস্যুতে করবিন অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে মার্কিন পণ্যের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের পক্ষে কাগজপত্র উপস্থাপন করে জনসনের উদ্দেশে তনি বলেন, ‘জাতীয় স্বাস্থ্যসেবাকে আপনারা যুক্তরাষ্ট্র ও বড় ওষুধ কম্পানির কাছে বিক্রি করে দেবেন।’

অভিযোগ অস্বীকার করে জনসন বলেন, ‘এটা একদম মিথ্যা। কোনো অবস্থায়ই এ সরকার কিংবা অন্য কোনো কনজারভেটিভ সরকার এনএইচএস নিয়ে ব্যবসা করবে না।’ তাঁর দাবি, এনএইচএসে বিপুল ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং তা অব্যাহত রাখা হবে।

যে ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্যে আগামী ১২ ডিসেম্বর আগাম নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেই ব্রেক্সিট নিয়েও বিতর্ক করেন ওই দুই নেতা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকরের ব্যাপারে জনসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে করবিন বলেন, ‘এ কয়েক মাসের মধ্যে আপনারা কাজটা করতে পারবেন না এবং সেটা আপনারা ভালোভাবেই জানেন।’ আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকরের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

করবিনের চ্যালেঞ্জের বিপরীতে তাঁকে জনসন প্রশ্ন করেন, ব্রেক্সিট চুক্তিতে তাঁর সমর্থন থাকবে কি না। এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে করবিন বলেন, তিনি গণভোটের রায় মেনে নেবেন। বলা দরকার, ক্ষমতায় বসলে লেবার পার্টি তিন মাসের মধ্যে ইইউর সঙ্গে নতুন ব্রেক্সিট চুক্তি করবে এবং ছয় মাসের মধ্যে ওই চুক্তির ব্যাপারে ব্রিটেনে গণভোট করবে—এমনটাই তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার।

২০১৬ সালের গণভোটে ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ তথা ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেয় ব্রিটিশরা। কিন্তু ব্রেক্সিটপরবর্তী ইইউ-ব্রিটেন বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন হবে, সেই বিতর্কের নিরসন হয়নি এখনো। ফলে তিন দফা ব্রেক্সিট পেছাতে হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে না পারায় তৃতীয় দফায় ব্রিটেনকে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে ইইউ।

তিন মাস সময় হাতে পেয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী। লক্ষ্য পূরণ হলে তিনি অনায়াসে তাঁর প্রস্তাবিত ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করাতে পারবেন এবং আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে পারবেন। সূত্র : গার্ডিয়ান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা