kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

পছন্দের সরকার গঠনে বেকায়দায় গোতাবায়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বেকায়দায় পড়তে পারেন শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। মূলত দুটি কারণে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়বেন তিনি। প্রথমত, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা এখন আগের চেয়ে অনেক কম। দ্বিতীয়ত, পার্লামেন্টে বিরোধীরা এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ।

শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সিংহলিরা গৃহযুদ্ধ অবসানের মূল কৃতিত্ব দিয়ে থাকেন গোতাবায়াকে। গত শনিবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, তাতে সিংহলিদের সংখ্যাই বেশি। অন্যদিকে সংখ্যলঘু তামিল এবং মুসলিমদের ভোট পাননি তিনি। কারণ গৃহযুদ্ধের শেষ দিকে গণহত্যা চালানোর অভিযোগও আছে গোতাবায়ার বিরুদ্ধে।

গত সোমবার শপথ অনুষ্ঠানে গোতাবায়া জানান, তিনি নিজের মতো করে সরকার গঠন করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই দেশের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট। নিজের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমি কোনো দ্বিধা করব না। আমি নিজের মতো করে সরকার গঠন করব, যাতে আমার নীতিমালা বাস্তবায়ন করা যায়।’

 

কিন্তু নিজের মতো সরকার গঠন করতে হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হবে। অথবা অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে অপসারণ করতে হবে তাঁকে। ২০১৫ সালের এক সংশোধনীতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, বিক্রমাসিংহেকে অপসারণের ক্ষমতা গোতাবায়ার নেই। এমনকি তিনি নিজে কোনো এমপি-মন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারবেন না। কোনো এমপিকে বরখাস্ত করতে হলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ লাগবে। গোতাবায়া পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করতে পারবেন নতুন নির্বাচনের ছয় মাস আগে। সেই হিসাবে, আগামী মার্চের আগে তিনি পার্লামেন্টও বিলুপ্ত করতে পারবেন না।

বিক্রমাসিংহের দল থেকে বলা হয়েছে, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। সেই সঙ্গে তারা গোতাবায়ার ম্যান্ডেটকে সমর্থন জানাবে। তবে কোন পদ্ধতিতে তারা গোতাবায়ার পাশে থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

শ্রীলঙ্কান সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক কুসাল পেরেরা বলেন, ‘গোতাবায়ার দলের যে ম্যান্ডেট, সেটা বিক্রমাসিংহের দলের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই সাংঘর্ষিক। এ জন্য গোতাবায়ার সঙ্গে থাকা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

এপ্রিলের আগে ২০২০ সালের জাতীয় বাজেটও প্রণয়ন করতে হবে গোতাবায়ার সরকারকে। এদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে পারেন গোতাবায়া। সূত্র : এপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা