kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি বেআইনি নয় : যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিন বলেছে ইসরায়েলি বসতিকে বৈধতা দেওয়ার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি বেআইনি নয় : যুক্তরাষ্ট্র

জেরুজালেমকে একতরফাভাবে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন রাখঢাক ছাড়াই ইসরায়েলের প্রতি অকাট্য সমর্থন দিয়ে চলেছে। গত সোমবার নতুন ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনের বিষয়কে প্রশাসনিক রূপ দিল যুক্তরাষ্ট্র। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানান, ফিলিস্তিনে স্থাপিত ইসরায়েলি বসতিকে বেআইনি মনে করে না তাঁর সরকার।

পম্পেও সোমবার সাংবাদিকদের জানান, সব ধরনের আইনি দিক সতর্কভাবে পর্যালোচনা করার পর যুক্তরাষ্ট্র একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে—পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিকদের বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। সেই সঙ্গে তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি বসতিকে বৈধ বলছে, তেমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। বরং মার্কিন প্রশাসন এসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ভার ইসরায়েলি আদালতের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় উত্ফুল্ল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন, ইসরায়েলি বসতির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ওই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ‘ঐতিহাসিক ভুল সংশোধিত হলো’। তাঁর মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ নীতির মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক সত্যের প্রতিফলন ঘটেছে।’

অন্যদিকে ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনাহ মন্তব্য করেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের বিধান বাতিল করার যোগ্যতা বা কর্তৃত্ব এবং ইসরায়েলি বসতিকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।’

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যস্থতা দলের প্রধান সায়েব ইরেকাত মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিক আইন বাতিল হয়ে গিয়ে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি বলবৎ হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু অবশ্য বরাবরের মতোই বলছেন, ‘ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করতে ইসরায়েল এখনো প্রস্তুত এবং আগ্রহী।’

নেতানিয়াহু এ বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ক্ষোভ প্রশমন করতে পারেনি। প্রতিবেশী জর্দানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের জন্য দুটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘারিনি বিবৃতিতে বলেন, ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান স্পষ্ট এবং তা অপরিবর্তিত আছে। সব ধরনের বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বেআইনি।’ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতি বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বানও জানানো হয়।

১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ঘোষণা করেছিল, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ১৯৮১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান আগের ঘোষণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জানান, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে তিনি বেআইনি মনে করেন না। এরপর ইসরায়েলি বসতিকে ‘বেআইনি’ বলার পরিবর্তে ‘অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করার নিয়ম চালু হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বসূরি বারাক ওবামা অবশ্য ভিন্ন নীতি অবলম্বন করেছিলেন। তাঁর শাসনামলের শেষ সময়ে ২০১৬ সালে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল, তাতে ভেটো দেওয়া থেকে বিরত ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প প্রশাসন ঠিক উল্টো পথে চলা শুরু করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গোটা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এবার তাঁর প্রশাসন জানাল, তারা ইসরায়েলি বসতিকে বেআইনি মনে করে না। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা