kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

ইউক্রেনের জেলেনস্কির সঙ্গে কথা

ট্রাম্পের সহযোগী ফোনালাপের প্রকাশ আটকে দেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন ফোনালাপের সারসংক্ষেপ প্রকাশ আটকে দিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা হয়েছিল, এই ফোনালাপ প্রকাশ হলে তা প্রেসিডেন্টকে সংকটে ফেলতে পারে। যদিও পরবর্তী সময়ে এই ফোনালাপের জের ধরেই ট্রাম্পের অভিশংসন বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই তদন্তের একটি অংশ হিসেবে নেওয়া সাক্ষ্য গত শনিবার প্রকাশ করা হলে ওই কর্মকর্তার অবস্থানের কথা জানা যায়।

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই তদন্ত কার্যক্রম চলছে। হাউসের গোয়েন্দা কমিটি পরিচালিত এ তদন্তে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে গত ৩১ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের ইউক্রেনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ টিমোথি মরিসন বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের আইনজীবীদের তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের সারসংক্ষেপ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কারণ তিনি মনে করেছিলেন, এ ফোনালাপ প্রকাশ পেলে তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ‘আমি মনে করেছিলাম এই ফোনালাপ খুব বেশি লোকের শোনার প্রয়োজন নেই।’ ঘটনার সময় মরিসন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান ছিলেন। সাক্ষ্য দেওয়ার এক দিন আগে তিনি পদত্যাগ করেন।

ট্রাম্প ২৫ জুলাই জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি এ সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে ডেমোক্রেটিক দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু জন্য চাপ দেন। বাইডেনের ছেলের ইউক্রেনের একই তেল কম্পানিতে শেয়ার ছিল। তদন্ত শুরু না করলে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। ফোনালাপের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর অভিযোগ ওঠে, ট্রাম্প ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে তাঁর দপ্তরকে ব্যবহার করেছেন। সে সূত্র ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনপ্রক্রিয়া শুরু করা যায় কি না তার তদন্ত শুরু হয়। গত সপ্তাহ থেকে সেই তদন্ত প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগের রুদ্ধদ্বার কক্ষে যে সাক্ষ্যগুলো নেওয়া হয়েছে সেগুলোও পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।

হাউসের গোয়েন্দা কমিটির প্রধান অ্যাডাম স্কিফ গত শনিবার টিমোথি মরিসনের সাক্ষ্য প্রকাশের পর বলেন, ‘আজ যে সাক্ষ্য প্রকাশ করা হলো এরপর বলাই যায়, ট্রাম্পের ২৫ জুলাইয়ের ফোনালাপ হোয়াইট হাউসজুড়ে পাগলা ঘণ্টি বাজিয়ে দিয়েছিল।’

মরিসন অবশ্য তাঁর সাক্ষ্যে আরো দাবি করেন, হোয়াইট হাউসের এক কর্মীর ‘ভুলের’ কারণে এই ফোনালাফ ‘অত্যন্ত গোপনীয়’ নথির পর্যায়ভুক্ত হয়। ফলে ফোনালাপের বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে যে ধারণা তৈরি হয়েছে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তিনি আরো দাবি করেন, এই ফোনালাপে তিনি ভুল কিছু পাননি। যদিও এই তদন্তে সাক্ষ্য দিতে আসা বেশির ভাগ সাক্ষীরই দাবি, ট্রাম্প কাজটি ঠিক করেননি এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের কারণে তিনি কাজটি করেছেন।

আগামী দিনে এই তদন্ত কমিটির সামনে হোয়াইট হাউস অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রাসেল ভৌট ও হোয়াইট হাউসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মিক মালভেনিকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা