kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

যুদ্ধাপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে

ইহাট ও অপারেশন নর্থমুরের তদন্ত করা কোনো ঘটনারই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়নি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আফগানিস্তান ও ইরাকে ব্রিটিশ বাহিনীর হাতে বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাজ্যের সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। বিবিসি প্যানোরমা ও ব্রিটিশ পত্রিকা সানডে টাইমসের এক অনুসন্ধানদল ১১ জন ব্রিটিশ গোয়েন্দার সঙ্গে কথা বলেছে, যারা জানিয়েছেন ওই দুটি দেশে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেয়েছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই সব হত্যাকাণ্ডের জন্য সেনাদের বিচার শুরু হওয়া উচিত ছিল। যদিও অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণবিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

যা দেখা গেছে অনুসন্ধানে

ব্রিটিশ বাহিনী যখন ইরাকের নিয়ন্ত্রণ নেয়, সে সময় হওয়া যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করেছে ইরাক হিস্টোরিক অ্যালেগেশন টিম বা ইহাট। একইভাবে আফগানিস্তানে হওয়া যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করেছে অপারেশন নর্থমুর নামের আরেকটি প্রকল্প। এ দুটি তদন্তের ভিত্তিতে নতুন সব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি প্যানোরমা ও সানডে টাইমসের তদন্তদল।

ব্রিটিশ সরকার পরে ইহাট ও অপারেশন নর্থমুর—দুটি তদন্তই বন্ধ করে দিয়েছিল।

ফিল শাইনার নামের একজন আইনজীবী ইহাটের কাছে এক হাজারের বেশি কেস স্টাডি জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু ইরাকে মক্কেল পাওয়ার জন্য তিনি মধ্যস্থতাকারীদের অর্থ প্রদান করেছিলেন—এমন অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে ওই মামলার আইনজীবী হিসেবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর পরই ওই তদন্ত দুটি সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল।

কিন্তু ইহাট ও অপারেশন নর্থমুরের সাবেক গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, মূলত অপরাধ তদন্ত বন্ধ করার জন্য সরকার ফিল শাইনারের ঘটনাটিকে অজুহাত হিসেবে কাজে লাগায়। ইহাট ও অপারেশন নর্থমুরের তদন্ত করা কোনো ঘটনারই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

ইহাট তদন্তদল কী বলছে?

ইহাটের একজন গোয়েন্দা প্যানোরমাকে বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আদতে সেনা বা অফিসার, কারো বিরুদ্ধেই কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। তারা এর দায় এড়িয়ে যেতে পারে না।

আরেকজন গোয়েন্দা বলেছেন, যারা যুদ্ধাপরাধের শিকার হয়েছে, তাদের বাজেভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘আমি একে বিরক্তিকর বলব। এবং আমার ওই পরিবারগুলোর জন্য খারাপ লেগেছে, তারা বিচার পাচ্ছে না। একজন ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে আপনি কিভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেন?’

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠা বেশ কয়েকটি ঘটনা প্যানোরমা নতুন করে অনুসন্ধান করেছে। এর মধ্যে ইহাটের তদন্ত করা এমন একটি ঘটনা রয়েছে, যেখানে ২০০৩ সালে বসরায় টহল চলাকালে একজন ইরাকি পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে একজন ব্রিটিশ সেনা। রিয়াদ আল-মোসায়ি নামের ওই পুলিশ সদস্যকে একটি সরু গলির মধ্যে গুলি করা হয়েছিল, পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান। ঘটনাটি তদন্ত করেছিলেন মেজর ক্রিস্টোফার সাস-ফ্রাংকসেন, তিনি সে সময় ওই ব্রিটিশ সেনার কমান্ডিং অফিসার ছিলেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্রিটিশ সেনার কাজকে বৈধতা দিয়ে মেজর সাস-ফ্রাংকসেন তদন্ত শেষ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ওই ইরাকি পুলিশ কর্মকর্তা প্রথমে গুলি ছুড়েছিলেন এবং ব্রিটিশ সেনা কেবল আত্মরক্ষার্থে গুলি করেছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আরেকজন ব্রিটিশ সেনা ওই ঘটনার সাক্ষী এবং তিনি নিশ্চিত করেছেন, ইরাকি পুলিশ সদস্যই প্রথমে গুলি চালান।

ইহাট গোয়েন্দারা দুই বছর ধরে এ ঘটনার তদন্ত করেন এবং ঘটনার সাক্ষী বলে দাবি করা সেনাসহ মোট ৮০ জন ব্রিটিশ সেনার সাক্ষাৎকার নেন। কিন্তু তিনি গোয়েন্দাদের জানান যে তিনি ওই সরু গলিতে ছিলেন না। ইহাটের কাছে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মেজর সাস-ফ্রাংকসেনের তদন্ত প্রতিবেদন যথার্থ নয় এবং এতে বলা হয়েছে যে আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শী, যা সত্য নয়।’ তিনি জানান যে তিনি একটিমাত্র গুলির শব্দ শুনেছেন, যার মানে দাঁড়ায় যে ইরাকি পুলিশ সদস্য মোটেও গুলি ছোড়েননি।

ইহাট অন্য যাঁদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে তাঁরাও সেটি নিশ্চিত করেছেন। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা