kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

শ্রীলঙ্কার ক্ষমতায় টারমিনেটর খ্যাত গোতাবায়া

শুধু সংখ্যালঘুরাই নয় উদ্বেগে পশ্চিমারাও

শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে রাজাপক্ষে পরিবারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মূল ইস্যু হলো কঠোরভাবে তামিল বিদ্রোহ দমন। ২০০৯ সালে ওই বিদ্রোহ নির্মূল করতে গিয়ে রাজাপক্ষে সরকার কমপক্ষে ৪০ হাজার তামিলকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে গোতাবায়ার বিরুদ্ধে মামলাও আছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুধু সংখ্যালঘুরাই নয় উদ্বেগে পশ্চিমারাও

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্সি নিশ্চিত করা গোতাবায়া রাজাপক্ষে দেশের সংখ্যাগুরু সিংহলি বৌদ্ধদের কাছে জনপ্রিয় বটে, তবে সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কাছে তিনি যেন এক আতঙ্কের নাম—পর্যবেক্ষকদের তেমনটাই অভিমত। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কায় রাজপক্ষে পরিবারের আধিপত্য পুনরায় প্রতিষ্ঠার আতঙ্ক পেয়ে বসেছে পশ্চিমাদেরও।

দেশটির আধিপত্যশীল সিংহলি সম্প্রদায়ে ১৯৪৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন গোতাবায়া। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম গোতাবায়া ১৯৭১ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে পেশাজীবন শুরু করেন। ২০ বছরের পেশাজীবনে তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়েছেন। এরপর তিনি তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। প্রত্যক্ষ রাজনীতির অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও পরবর্তী জীবনে দুই মেয়াদে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মূলত বড় ভাই মাহিন্দা রাজপক্ষের ২০০৫-১০ সালে টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্সিকালে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রিত্ব পান।

পেশার ধরনে এমন পরিবর্তনের মাঝখানের সময় গোতাবায়া পুরো পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তাঁরা দেশে ফেরেন। এর দুই বছর পরই তাঁর ভাই মাহিন্দা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং তিনি হন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। কেবল গোতাবায়া নন, রাজাপক্ষে পরিবারের আরো অনেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। টানা ১০ বছর শ্রীলঙ্কায় যেন রাজাপক্ষে পরিবারের শাসনই চালু ছিল। তাদের ওই সময়ের ভূমিকা আজও বিতর্কিত।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে রাজাপক্ষে পরিবারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মূল ইস্যু হলো কঠোরভাবে তামিল বিদ্রোহ দমন। ২০০৯ সালে ওই বিদ্রোহ নির্মূল করতে গিয়ে রাজাপক্ষে সরকার কমপক্ষে ৪০ হাজার তামিলকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে গোতাবায়ার বিরুদ্ধে মামলাও আছে, যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

শুধু তামিল নয়, ভিন্নমতাবলম্বী বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, সাংবাদিকসহ হাজার হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত গোতাবায়া তাঁর ব্যক্তিত্বের কারণে খোদ পরিবার থেকেই ‘টারমিনেটর’ অর্থাৎ তথ্য নির্মূলকারী আখ্যা পেয়েছেন। দ্বৈত নাগরিক হিসেবে গোতাবায়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার রাখেন না—এমন আলোচনা উঠলেও তাঁর দাবি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের স্বার্থে তিনি এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবির ব্যাপারে যে তদন্ত চলছিল, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেটা আপাতত স্থগিত হয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গোতাবায়ার প্রেসিডেন্সি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি আছে আতঙ্কও। পর্যবেক্ষক ও সমালোচকদের ধারণা, রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ গোতাবায়ার হয়ে মূল ভূমিকা পালন করবেন মাহিন্দা। তাদের এমন ধারণার পেছনে কারণ আছে বটে। গোতাবায়ার হয়ে নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে ছিলেন মাহিন্দা। এমনকি বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে ভাইয়ের হয়ে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। না বললেই নয়, গোতাবায়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে মাহিন্দাই প্রধানমন্ত্রিত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে পর্যবেক্ষকদের বিশ্বাস। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের আরো অনেকেই বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন। ফলে রাজাপক্ষে পরিবারের শাসন চালুর আশঙ্কায় ভীত সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীরা।

উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। মাহিন্দার প্রেসিডেন্সিকালে শ্রীলঙ্কার কূটনীতিই এ উদ্বেগের কারণ। ওই সময় শ্রীলঙ্কা প্রবলভাবে চীনমুখী হয়ে পড়ে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা