kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

অভিশংসন তদন্তের শুনানি

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরেক কর্মকর্তার সাক্ষ্য

জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ইউক্রেন তদন্ত করবে কি না, সে বিষয় এক মার্কিন দূতের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরেক কর্মকর্তার সাক্ষ্য

ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন আরেক মার্কিন কর্মকর্তা। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান অভিশংসন তদন্তের শুনানিতে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) নিযুক্ত মার্কিন দূত গর্ডন সনল্যান্ডের মধ্যকার একটি ফোনালাপ তিনি শুনে ফেলেছিলেন।

ওই ফোনালাপে ট্রাম্প জানতে চেয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ইউক্রেন সরকার দুর্নীতির তদন্ত করবে কি না? জবাবে সনল্যান্ড বলেছিলেন, ট্রাম্পের কথামতো ইউক্রেন যেকোনো কিছু করতে রাজি আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন ডেমোক্র্যাট নেতা বাইডেন। এ অবস্থায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বাইডেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে বলে ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন কি না, অভিশংসনের তদন্তে সে বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মূলত জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের মধ্যকার একটি ফোনালাপের সূত্র ধরে অভিশংসনের এই তদন্তে নেমেছে মার্কিন কংগ্রেস। এক গোয়েন্দা সদস্যের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া গত ২৫ জুলাইয়ের ওই ফোনালাপ থেকে জানা যায়, ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক সহায়তা দেয়, তা জরুরি ভিত্তিতে চেয়েছিলেন জেলেনস্কি। কিন্তু ট্রাম্প এই সহায়তার শর্ত হিসেবে বলেছিলেন, ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনের পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান অভিশংসন তদন্তের শুনানিতে শুক্রবার সাক্ষ্য দেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ডেভিড হোমেস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে গর্ডন সনল্যান্ডের ওই ফোনালাপ হয় ২৬ জুলাই; অর্থাৎ ট্রাম্প ও জেলেনস্কির ফোনালাপের এক দিন পর। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি রেস্তোরাঁ থেকে ফোনটি করেছিলেন সনল্যান্ড।

শুনানিতে হোমেস যে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন, তার একটি কপি পেয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ। ওই বিবৃতিতে হোমেস উল্লেখ করেছেন, “ট্রাম্পকে শুরুতেই সনল্যান্ড বলেন যে ‘জেলেনস্কি আপনার প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন।’ তারপর ট্রাম্পকে আমি বলতে শুনি, ‘তার মানে জেলেনস্কি তদন্তের ব্যাপারে রাজি হয়েছেন?’ জবাবে সনল্যান্ড বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি এটা করবেন। শুধু তা-ই নয়, আপনি জেলেনস্কিকে যা করতে বলবেন, তিনি তাই করবেন।’”

এদিকে রেস্তোরাঁ থেকে ট্রাম্পকে ফোন করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষকরা। তাঁরা বলছেন, রেস্তোরাঁ থেকে ফোন দেওয়ার কারণে এই ফোনালাপ সম্ভবত রুশ গোয়েন্দাদের হাতেও চলে গেছে।

হোমেসের মতো গত বুধবার একই সাক্ষ্য দেন ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিল টেইলর। তিনি বলেন, তাঁর এক সহযোগীও একই ফোনালাপ শুনেছিলেন। ওই সহযোগী বলেছেন, বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের ব্যাপারে সনল্যান্ডের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তখন সনল্যান্ড বলেছিলেন, ইউক্রেন তদন্ত করতে রাজি আছে।

তবে ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় দাবি করেছেন, সনল্যান্ডের সঙ্গে এ ধরনের কোনো আলোচনা তিনি করেননি। এদিকে অভিশংসনের শুনানিতে অংশ নেওয়া ইউক্রেনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন দূত মেরি ইয়োভানোভিচকে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প টুইটারে লেখেন, ‘ইয়োভানোভিচ কোথাও ভালো কিছু করেননি।’

এ বিষয়ে ইয়োভানোভিচ বলেন, ‘আমাকে ভয় দেখাতে তিনি এসব বলছেন।’ ভয় দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিসংশনের শুনানি পর্যবেক্ষণ করে বিষয়টি আমার কাছে অসম্মানজনক মনে হয়েছে।’ সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা