kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের পর

‘দুর্বল’ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দুই দিনে ৩৬ জন নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘দুর্বল’ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা  দুই দিনে ৩৬ জন নিহত

গাজার প্যালেস্টাইনিয়ান ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) সঙ্গে ইসরায়েল গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে, সেটা কতক্ষণ টিকে থাকবে, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর ঘোষণার পরও গোলাগুলি চলছে। দুই পক্ষের লড়াইয়ে এরই মধ্যে দুজন পিআইজে নেতাসহ ৩৬ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটেছে।

ইসরায়েলে বিভিন্ন সময় হামলা করা এবং ভবিষ্যতে আরো হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগে পিআইজে নেতাদের অবস্থান লক্ষ্য করে গত মঙ্গলবার থেকে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ওই হামলায় এরই মধ্যে ৩৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার নিহত হয়েছেন পিআইজে নেতা বাহা আবু আল আতা ও তাঁর স্ত্রী। আর গত বুধবার দিবাগত রাতে নিহত হয়েছেন আরেক পিআইজে নেতা আবু মালহুস। তিনি ও তিন শিশুসহ তাঁর পরিবারের মোট আট সদস্য ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যে ইসরায়েল-পিআইজের মধ্যে মধ্যস্থতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত বুধবার বিকেলে মিসরে পৌঁছান জাতিসংঘ দূত নিকোলায় ম্লাদেনভ। সেখানে মিসর ও জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের চেষ্টায় ইসরায়েল-পিআইজের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয় এবং গতকাল ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ওই চুক্তি কার্যকর হয়। চুক্তিতে গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ প্রদর্শন শান্তিপূর্ণ করার ব্যাপারে পিআইজের অঙ্গীকার আদায় করা হয়। আর ইসরায়েলের দিক থেকে সহিংসতা বন্ধ করা এবং ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে চুক্তি বজায় রাখার কথা বলা হয়।

এর আগে পিআইজের মুখপাত্র অবশ্য জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতার ব্যাপারে তাঁদের কোনো আগ্রহ নেই। আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, পিআইজের প্রতি ইসরায়েলি বাহিনী কোনো দয়া দেখাবে না। উভয় পক্ষের এমন কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও গতকাল ভোরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। তবে এটি কতক্ষণ কার্যকর থাকবে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদক জানান, গতকাল গাজার আশপাশের এলাকা থেকে রকেট উৎক্ষেপণের শব্দ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের আর্টিলারির গতিবিধিও বেড়েছে বলে ওই প্রতিবেদনের ধারণা।

এসবের পাশাপাশি হামাসের দিক থেকেও আক্রমণাত্মক বক্তব্য এসেছে। গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েলি জঙ্গি বিমান যতক্ষণ গাজা উপত্যকায় বোমা বর্ষণ করবে, ততক্ষণ ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে এবং ফিলিস্তিনি জনতাকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।’

গত মঙ্গলবার হামলার শুরুর পর ইসরায়েল অবশ্য ঘোষণা দিয়েছিল, তারা শুধু পিআইজের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাবে, হামাস তাদের হামলার লক্ষ্য নয়। সূত্র : এএফপি, আলজাজিরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা