kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

বলিভিয়ায় মোরালেস অধ্যায়ের সমাপ্তি

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে চলমান বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকা এই বামপন্থী নেতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বলিভিয়ায় মোরালেস অধ্যায়ের সমাপ্তি

আন্দোলনের মুখে শেষমেশ পদত্যাগ করলেন বলিভিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপির পদত্যাগ এবং সামরিক বাহিনী সমর্থন হারানোর পর রবিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তবে মোরালেসের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকার ওই দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে বলিভিয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছিল। সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা মোরালেস রবিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এর আগে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর পাশাপাশি উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তা তাঁর পাশ থেকে সরে দাঁড়ান।

মোরালেসের পদত্যাগের পর অনেক শহরে বিজয় মিছিল করে আন্দোলনকারীরা। তবে কয়েকটি শহরে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। মোরালেসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কার্লোস মেসা বলেছেন, বিশ্ববাসীর সামনে বলিভিয়ার মানুষ নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। আগামী দিনে নতুন এক বলিভিয়াকে দেখবে মানুষ।

এদিকে মোরালেস পদত্যাগ করার পর প্রায় ২০ জন আইন প্রণেতা বলিভিয়ায় অবস্থিত মেক্সিকোর দূতাবাসে আশ্রয় নেন। মেক্সিকো বলেছে, তাঁরা মোরালেসকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।

পদত্যাগের পর এক টুইট বার্তায় মোরালেস অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। হামলা হয়েছিল তাঁর বাসভবনেও। তবে পুলিশ কমান্ডার ভ্লাদিমির ইউরি কালদেরন স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, এটা প্রকৃত ঘটনা নয়।

আইমারা জাতিগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা মোরালেস একসময় কোকা চাষি ছিলেন। ২০০৬ সালে ওই জাতিগোষ্ঠী থেকে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। টানা ১৪ বছরের শাসনামলে অনেক অর্জনও আছে মোরালেসের। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য জয়ের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির পরিধি তিন গুণ বৃদ্ধি করেন তিনি। গত ২০ অক্টোবরের নির্বাচনে নিজেকে জয়ী ঘোষণা করে মোরালেস চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসেন। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে রাজপথে নামে হাজারো মানুষ। গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হয়ে কয়েক শ মানুষ।

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে ওই অঞ্চলের ৩৫টি দেশের জোট—অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস (ওএএস)। গত রবিবার ওএএস জানায়, তারা যে যে ক্ষেত্রে তদন্ত করেছে, তার প্রতিটিতে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।

ওএএসের এই প্রতিবেদন সামনে আসার পর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরো জোরালো হয়। বিক্ষোভের মুখে মোরালেস নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারীরা। সেই সঙ্গে মোরালেসের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়ে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানান পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর কমান্ডাররা।

মোরালেসের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করায় দেশটিতে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন এক সংকট তৈরি হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট আলভারো গার্সিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট না থাকলে সিনেটের প্রেসিডেন্ট কিংবা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের প্রেসিডেন্টের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা। কিন্তু এই দুজনও পদত্যাগ করেছেন। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা