kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির বিতর্ক

ফিরে দেখা ইতিহাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফিরে দেখা ইতিহাস

১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল ভারতের উত্তরাঞ্চলের শহর অযোধ্যায়। ধর্মীয়ভাবে পবিত্র হিসেবে বিবেচিত এই অঞ্চলে বহু বছর ধরেই হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিতর্কিত এই পবিত্র স্থানের ইতিহাস তুলে ধরা হলো।

১৫২৮ : কিছু হিন্দুর মতে, সনাতন ধর্মের অন্যতম আরাধ্য দেবতা রাম যেখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেখানে একটি মসজিদ তৈরি করা হয়।

১৮৫৩ : ধর্মকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

১৮৫৩ : ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসন দুই ধর্মের উপাসনার জায়গা আলাদা করার উদ্দেশ্যে বেষ্টনী তৈরি করে। বেষ্টনীর ভেতরের চত্বর মুসলমানদের জন্য এবং বাইরের চত্বর হিন্দুদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হয়।

১৯৪৯ : মসজিদের ভেতর দেবতা রামের মূর্তি দেখা যায়। হিন্দুদের বিরুদ্ধে মূর্তিগুলো রাখার অভিযোগ ওঠে। মুসলমানরা প্রতিবাদ জানায় এবং দুই পক্ষই দেওয়ানি মামলা করে। সরকার ওই চত্বরকে বিতর্কিত জায়গা বলে ঘোষণা দেয় এবং দরজা বন্ধ করে দেয়।

১৯৮৪ : বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতৃত্বে দেবতা রামের জন্মস্থান উদ্ধার এবং তাঁর সম্মানে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে হিন্দুরা। তৎকালীন বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি (পরবর্তীকালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ওই প্রচারণার নেতৃত্ব দেন।

১৯৮৬ : জেলার বিচারক আদেশ দেন যেন বিতর্কিত মসজিদের দরজা উন্মুক্ত করে দিয়ে হিন্দুদের সেখানে উপাসনার সুযোগ দেওয়া হয়। মুসলমানরা এর প্রতিবাদে বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি গঠন করে।

১৯৮৯ : বিতর্কিত মসজিদসংলগ্ন জায়গায় রাম মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন করে নতুন প্রচারণা শুরু করে ভিএইচপি।

১৯৯০ : ভিএইচপির কর্মীরা মসজিদের আংশিক ক্ষতিসাধন করে। প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর আলোচনার মাধমে বিতর্ক সমাধানের চেষ্টা করলেও তা পরের বছর বিফল হয়।

১৯৯১ : অযোধ্যা যে রাজ্যে অবস্থিত, সেই উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় আসে বিজেপি।

১৯৯২ : ভিএইচপি, বিজেপি ও শিবসেনা পার্টির সমর্থকরা মসজিদটি ধ্বংস করে। এর ফলে পুরো ভারতে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে হওয়া দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়।

১৯৯৮ : প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির অধীনে জোট সরকার গঠন করে বিজেপি।

২০০১ : মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই স্থানে আবারও মন্দির তৈরির দাবি তোলে ভিএইচপি।

জানুয়ারি ২০০২ : নিজের কার্যালয়ে অযোধ্যা সেল তৈরি করেন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ি। সিনিয়র কর্মকর্তা শত্রুঘ্ন সিংকে নিয়োগ দেওয়া হয় হিন্দু ও মুসলমান নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য।

ফেব্রুয়ারি ২০০২ : উত্তর প্রদেশের নির্বাচনের তফসিলে মন্দির তৈরির বিষয়টি বাদ দেয় বিজেপি। ভিএইচপি ১৫ মার্চের মধ্যে মন্দির নির্মাণকাজ শুরু করার ঘোষণা দেয়। শত শত স্বেচ্ছাসেবক বিতর্কিত স্থানে জড়ো হয়। অযোধ্যা থেকে ফিরতে থাকা হিন্দু অ্যাক্টিভিস্টদের বহনকারী একটি ট্রেনে হামলার ঘটনায় অন্তত ৫৮ জন মারা যায়।

মার্চ ২০০২ : ট্রেনে হামলার জের ধরে গুজরাটে হওয়া দাঙ্গায় এক হাজার থেকে দুই হাজার মানুষ মারা যায়।

এপ্রিল ২০০২ : ধর্মীয়ভাবে পবিত্র হিসেবে বিবেচিত জায়গাটির মালিকানার দাবিদার কারা, তা নির্ধারণ করতে তিনজন হাইকোর্ট বিচারক শুনানি শুরু করেন।

সেপ্টেম্বর ২০১০ : এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দেন যে স্থানটির নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি করে দেওয়া উচিত। কোর্টের রায় অনুযায়ী এক-তৃতীয়াংশের নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের, এক-তৃতীয়াংশ হিন্দুদের এবং বাকি অংশ ‘নির্মোহী আখারা’ গোষ্ঠীর কাছে দেওয়া উচিত। যে অংশটি বিতর্কের কেন্দ্র, যেখানে মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল, তার নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয় হিন্দুদের কাছে। একজন মুসলমান আইনজীবী বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

মে ২০১১ : ২০১০ সালের রায়ের বিরুদ্ধে হিন্দু ও মুসলমান—দুই পক্ষই আপিল করায় হাইকোর্টের আগের রায় বাতিল করেন সুপ্রিম কোর্ট।

নভেম্বর ২০১৯ : সে জায়গাটিতে মন্দির তৈরির পক্ষেই চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা