kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বাবরি মসজিদ মামলার রায় আজ

বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গ্রেপ্তার অন্তত ৫০০ জন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি মামলার রায় আজ শনিবার ঘোষণা করা হবে। মামলার রায় ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া উত্তর প্রদেশ রাজ্যের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপকক্ষ। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে গড়া পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। প্রধান বিচারপতি অবসর নেবেন ১৭ নভেম্বর। এর আগে এই মামলার রায় দেওয়া হতে পারে।

এ রায়কে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এরই মধ্যে আধাসামরিক বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও কড়া নজরদারি শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শান্তি বজায় রাখতে এ ইস্যুতে অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে মন্ত্রীদের পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে প্রধান বিচারপতি গগৈর গতকাল শুক্রবার উত্তর প্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সে রাজ্যের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল। প্রধান বিচারপতি এর আগে আলোচনার জন্য উত্তর প্রদেশের মুখ্য সচিব ও পুলিশপ্রধানকে নিজের চেম্বারে তলব করেন। 

ষোড়শ শতকে ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা শহরের রামকোট হিলে বাবরি মসজিদ নির্মিত হয়। তবে ওই জমির মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করে আসছে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়। হিন্দুদের বিশ্বাস, ভগবান রামের জন্মস্থানে ওই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে সময় সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার লোক নিহত হয়েছিল।

২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দেন, বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি তিন পক্ষ—সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া ও রামলালা বিরাজমানের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করতে হবে। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ১৪টি আবেদনপত্র জমা পড়ে। এরপর তিন সদস্যের মধ্যস্থতাকারী প্যানেল তৈরি করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ায় গত ৬ আগস্ট থেকে এ মামলার দৈনিক শুনানি শুরু হয়েছিল। কিছুদিন আগে শেষ হয় বিতর্কিত রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের জমিসংক্রান্ত মামলার শুনানি। উত্তর প্রদেশ পুলিশের প্রধান ও পি সিং বলেছেন, অযোধ্যা রায়-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আমরা প্রস্তুত। আমরা রুট মার্চ শুরু করে দিয়েছি। সব জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় শান্তি কমিটিগুলোর সঙ্গে নিরন্তর বৈঠক করার জন্য। গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে চূড়ান্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা