kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষ্য

ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড আইনের শাসনের জন্য ক্ষতিকর

অভিশংসন তদন্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড আইনের শাসনের জন্য ক্ষতিকর

উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ কেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার সেই বিতর্কিত কথোপকথন কূটনৈতিক ছিল না, ছিল রাজনৈতিক এবং এ ধরনের কথোপকথন উভয় দেশে আইনের শাসনের জন্য ক্ষতিকর—মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সাক্ষ্য দানকালে এমন মন্তব্য করেছেন প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তা।

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংনি করার লক্ষ্যে তদন্ত করছেন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এরই মধ্যে তাঁরা ১২ জনের বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাক্ষ্য নিয়েছেন। তবে সব সাক্ষ্যই নেওয়া হয়েছে রুদ্ধদ্বার কক্ষে এবং আগামী বুধবার থেকে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করতে যাচ্ছে হাউস।

প্রকাশ্য শুনানি শুরুর আগে একে একে প্রকাশ করা হচ্ছে এরই মধ্যে সাক্ষ্যদানকারীদের বক্তব্য। গতকাল শুক্রবার দিনের শুরুতেই উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ কেন্টের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। তিনি গত ১৫ অক্টোবর কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেন। সেদিন তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ওপর যে চাপ সৃষ্টি করেছেন, সে ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর বিষয়টা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে। তদন্তকারীদের তিনি বলেন, ‘আমি একটা ফাইলে লেখা নোটে উল্লেখ করেছি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে যে তদন্ত শুরুর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাতে আমি উদ্বিগ্ন। ওই চেষ্টা ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের আইনের শাসনের জন্য ক্ষতিকর।’

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক এক সহযোগী জেনিফার উইলিয়ামসের সাক্ষ্য নেন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের তদন্তকারীরা। সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দিনের অনেকটা সময়জুড়ে তাঁকে জেরা করেন ডেমোক্র্যাটরা। এদিন তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ২৫ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে যে ফোন করেছেন, তা কূটনৈতিক ছিল না, ছিল রাজনৈতিক ফোন কল। ওই দিনের ফোনালাপে ট্রাম্প ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর জন্য জেলেনস্কির ওপর বারবার চাপ সৃষ্টি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, জেলেনস্কিকে তদন্ত শুরুর জন্য বাধ্য করতে ট্রাম্প ইউক্রেনকে দেওয়া ৪০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থগিত করেছেন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ মিক মুলভানে যেন গতকাল অভিশংসন তদন্তে সাক্ষ্য দেন, সে জন্য তাঁর ওপর সমন জারি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি আসলেই সহযোগিতা করবেন কি না, সেটা খোদ তদন্তকারীদের কাছেও পরিষ্কার নয়।

হোয়াইট হাউসে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের অংশ হিসেবে গত মাসে করা এক সংবাদ সম্মেলনে মুলভানে বলে ফেলেছিলেন, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ খণ্ডনের স্বার্থে তদন্ত শুরুর জন্যই ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তা স্থগিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরমুহূর্তেই মুলভানে অবশ্য ওই বক্তব্য থেকে সরে আসার চেষ্টা করেছিলেন। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা