kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

দুই লে. গভর্নরের শপথগ্রহণ

আনুষ্ঠানিকভাবে বিভক্ত হলো ভারতীয় কাশ্মীর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আনুষ্ঠানিকভাবে বিভক্ত হলো ভারতীয় কাশ্মীর

ছবিঃ ইন্টারনেট

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হলো। সেখানে এখন তৈরি হলো জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নামের কেন্দ্রশাসিত দুটি ‘প্রশাসনিক অঞ্চল’ (টেরিটোরি)। কাশ্মীরের ‘রাজ্য মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন’ বাতিল করে ইউনিয়ন টেরিটোরি ঘোষণার প্রায় তিন মাস পর বুধবার মধ্যরাতে (৩১ অক্টোবর প্রথম প্রহর) তা বাস্তবায়িত হলো। এর ফলে ভারতের রাজ্যের সংখ্যা কমে দাঁড়াল ২৮ এবং টেরিটোরির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯-এ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল এই সিদ্ধান্তকে রক্তভেজা হিমালয় অঞ্চলের জন্য ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ বলে অভিহিত করেছেন।

গত আগস্ট মাসের শুরুর দিকে ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা বাতিলের ঘোষণা দেয়, যাতে সাবেক রাজ্যটিতে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরে চলাফেরায় বিধি-নিষেধ আরোপ করে এবং হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে।

নতুন প্রশাসনিক অঞ্চলের যাত্রা উপলক্ষে কাশ্মীরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সরকারি বাহিনীর কয়েক হাজার অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন এবং বিদ্রোহী হামলা ও ভারতবিরোধী বিক্ষোভের বিষয়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল কাশ্মীরের প্রধান শহর শ্রীনগর ও অন্যান্য শহরের পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীকে বুলেট প্রুফ অবস্থায় রাস্তায় টহল দিতে দেখা গেছে।

গতকাল নিজ রাজ্য গুজরাটে এক সমাবেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সিদ্ধান্তকে কাশ্মীরের ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ বলে অভিহিত করেন। সেখানে ভারতের স্বাধীনতার নায়ক সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের বিশাল আকৃতির ভাস্কর্যের পাশে সমাবেশ বক্তব্য দেন তিনি।

মোদি বলেন, ‘কাশ্মীর হচ্ছে এমন একটি স্থান, যেখানে গত তিন দশকের সন্ত্রাস ৪০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। এ কারণে অনেক মা তাঁদের সন্তান হারিয়েছেন।...আর কত দিন ধরে এই সব নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু দেখতে হতো? আমরা সন্তুষ্ট যে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ আজ থেকে নতুন ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা শুরু করছে। লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর আজ তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পদক্ষেপ নিল।’

অখণ্ড কাশ্মীর ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে দুইবার যুদ্ধ বাধে। এর মধ্যে ভারতশাসিত কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিতে তিন দশক ধরে আন্দোলন, সংগ্রাম ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটে, যাতে বহু মানুষ হতাহত হয়। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ সীমান্তরেখায় পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় গত ৫ আগস্ট ভারতের নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার এক ঘোষণায় সংবিধানে কাশ্মীরসংক্রান্ত ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল করে। এই ঘোষণার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার এবং টেলিযোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ওই ঘোষণায়ই বলা হয়, ৩১ অক্টোবর থেকে রাজ্যটি দুটি কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক অঞ্চলে (ইউনিয়ন টেরিটোরি) বিভক্ত করা হবে। এর মধ্যে রাজ্যটির পশ্চিমাংশ জম্মু-কাশ্মীর নামে এবং চীনের সঙ্গে পূর্ব সীমান্তের অংশটি লাদাখ নামে নামকরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে এখন ভারতের রাজ্যসংখ্যা ২৮ ও ইউনিয়ন টেরিটোরির সংখ্যা ৯টিতে দাঁড়াল।

দুই টেরিটোরির দুই লেফটেন্যান্ট গভর্নরের শপথ : নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে দুই লেফটেন্যান্ট গভর্নর শপথ নিয়েছেন। জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে শপথ নেন আইএএস অফিসার গিরীশচন্দ্র মুর্মু। নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি ছিলেন রাজ্যের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। আর লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হলেন দেশের সাবেক তথ্য কমিশনার রাধাকৃষ্ণ মাথুর।

এক কোটি ২২ লাখ জনসংখ্যার জম্মু-কাশ্মীরে থাকবে নির্বাচিত আইনসভা, যার মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ বেশির ভাগ ক্ষমতা থাকবে কেন্দ্রের হাতে। লাদাখের তিন লাখ মানুষ এবার সরাসরি কেন্দ্রের শাসনে থাকবে। এত দিন জম্মু-কাশ্মীর থেকে ছয়জন এমপি যেতেন লোকসভায়। রাজ্য ভেঙে যাওয়ায় জম্মু-কাশ্মীর পাবে পাঁচজন এমপি। লাদাখ পাবে একজন।

চীনকে হুঁশিয়ারি : গতকাল কাশ্মীর বিভাজনের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার চীনকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য কেউ নাক গলাক, এটা ভারত কখনো চায় না।’ গত ৫ আগস্ট সংবিধানে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করলে চীন এটাকে বেআইনি বলেছিল। এই প্রেক্ষাপটে গতকাল ভারতীয় মুখপাত্র আরো বলেন, ‘চীন হোক বা অন্য কোনো দেশ, আমরা কখনোই চাই না ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলুক; ভারত যেমন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলতে যায় না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা