kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কুর্দি ইস্যুতে রুশ-তুর্কি ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুর্দি ইস্যুতে রুশ-তুর্কি ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি

কুর্দি বাহিনীকে সরিয়ে উত্তর সিরিয়া সীমান্তে নিরাপদ (সেফ জোন) অঞ্চল গড়ে তুলতে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে একটি ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কুর্দিদের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ ঘোষণা এলো। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় চলা আট বছরের গৃহযুদ্ধের ধরন বদলে যেতে পারে। কারণ চুক্তিতে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখতে সম্মতি দিয়েছে তুরস্ক। কিছুদিন আগেও যেখানে মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতি ছিল, সেখানে এখন রুশ-তুর্কি বাহিনীর যৌথ টহল চলবে। ফলে ভবিষ্যৎ সিরিয়ার আকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ হাতছাড়া হলো। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় পরাজয় বলে অভিহিত করেছে।

গত মঙ্গলবার রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় অবকাশযাপন নগরী সোচিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের মধ্যে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার বৈঠক শেষে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির ফলে কুর্দি যোদ্ধাদের প্রস্তাবিত সেফ জোন থেকে সরে যেতে হবে এবং এলাকাটি রাশিয়া ও তুরস্কের বাহিনীর যৌথ নজরদারিতে থাকবে, যাতে সিরীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীরও উপস্থিতি থাকবে।

এ ব্যাপারে কুর্দিদের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ দেশে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ক্রেমলিন জানিয়েছে, চুক্তিতে রাশিয়ার বাহিনীর সঙ্গে সিরীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাজে সমর্থন দেওয়ায় তিনি পুতিনকে ধন্যবাদও দিয়েছেন।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরপরই সেখানে তুর্কি বাহিনীর হামলা এবং মার্কিন হস্তক্ষেপে সেখানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্যেই তুর্কি-রুশ চুক্তিটি হয়ে গেল। মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পর গত ৯ অক্টোবার সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল কুর্দিদের ওপর হামলা শুরু করে তুর্কি বাহিনী, যাতে তুর্কি সমর্থিত সিরিয়ার আসাদ সরকারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোও অংশ নেয়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, আট দিনের এই অভিযানে ৮০ হাজার শিশুসহ এক লাখ ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, এ সময়ে ১২০ জন বেসামরিক নাগরিক, ২৫৯ জন কর্দি যোদ্ধা, ১৯৭ জন তুর্কি সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহী এবং সাতজন তুর্কি সেনা মারা গেছে।

চুক্তির অধীনে সীমান্ত থেকে কুর্দি বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টি যৌথভাবে দেখভাল করবে রুশ ও তুর্কি বাহিনী।  সেফ জোন গড়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে তুরস্ক সিরিয়ার সীমান্তবর্তী রাস আল আইন ও তাল আবয়েদ পর্যন্ত দখল করে নেওয়া ১২০ কিলোমিটার এলাকায় তুরস্কের বাহিনী থাকতে পারবে। রাশিয়া সেটা মেনে নেবে। চুক্তিতে ওই অঞ্চলের সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার এলাকা থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের সরে যেতে ১৫০ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা শুরু হয়েছে গতকাল মধ্যাহ্ন থেকে। আগামী ২৯ অক্টোবর এই সময়সীমা শেষ হলে তুর্কি ও রুশ সেনারা সেখানে যৌথ টহল শুরু করবে। 

কী হারাল যুক্তরাষ্ট্র : গত চার বছর ধরে উত্তর সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন লড়াইয়ে কুর্দি বাহিনীও অংশ নেয়। কিন্তু এই যুদ্ধে কুর্দি জনগোষ্ঠীর মিলিশিয়া বাহিনী কুর্দিশ পিপলস প্রটেকশন ফোর্স ইউনিট (ওয়াইপিজি) কুর্দি বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া মানতে পারেনি তুরস্ক, যাকে সন্ত্রাসী বাহিনী বলে মনে করে। মাত্রই দুই সপ্তাহ আগে সেখান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যহার করে নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরই সেখানে একসময়কার মার্কিন মিত্র কুর্দিদের ওপর হামলা শুরু করে তুরস্ক। 

সূত্র : বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা