kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিংহাসনে সম্রাট নারুহিতো

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিংহাসনে সম্রাট নারুহিতো

গতকাল জাপানের সিংহাসনে অধিষ্ঠানের ঘোষণা শেষে অতিথিদের সামনে সম্রাট নারুহিতো। ছবি : এএফপি

জাপানের সম্রাট নারুহিতো তাঁর সিংহাসনে আরোহণের ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

৫৯ বছর বয়সী নারুহিতো গত ১ মে সিংহাসনে আরোহণ করেন। ওই সময় খুব সাধারণ একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি সিংহাসনে বসেন। গতকাল বিশ্বের অন্যান্য রাজপরিবার, সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তিনি ‘সুকোই নো রেই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাপানের রাজাসনে নিজের অধিকার ঘোষণা করেন।

মূল অনুষ্ঠানটি হয় রাজপ্রাসাদের পাইন রুমে। সেখানে সাড়ে ছয় মিটার লম্বা সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন সম্রাট নারুহিতো। পাশে অপেক্ষাকৃত ছোট আসনে ছিলেন সম্রাজ্ঞী মাসাকো। দুজনের পরনেই ছিল রাজপরিবারের সদস্যদের বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য ঐতিহ্যবাহী ভারী পোশাক। পার্পল রঙের ভারি পর্দা উন্মোচনের মধ্য দিয়ে তাঁরা অতিথিদের সামনে দৃশ্যমান হন। এরপর সম্রাট তাঁর দাবিনামা পাঠ করেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ও বিদেশে আমি সিংহাসনে আমার অধিষ্ঠান ঘোষণা করছি।’ সম্রাজ্ঞী এ সময় পাশেই নীরবে অবস্থান করেন।

এরপর জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সম্রাটকে শুভেচ্ছা জানান এবং সম্মানসূচকভাবে তিনবার হাত ওপরের দিকে তুলে ঘোষণা করেন ‘বানজাই’ তথা ‘সম্রাট দীর্ঘজীবী হোন’।

অনুষ্ঠানটি ছিল খুব অল্প সময়ের। আর এ স্বল্প সময়টুকু খুব নীরবে পার করেন রাজপরিবারের সদস্য ও অতিথিরা। মূল অনুষ্ঠানের সময় রাজপরিবারের সদস্যরা নিঃশব্দে পাইন রুমে প্রবেশ করেন। শব্দ বলতে কেবল অনুষ্ঠানের প্রয়োজনে ডঙ্কা আর ঢাকের শব্দ। অনুষ্ঠান শেষে পার্পল পর্দা টেনে দিতেই নিঃশব্দেই বেরিয়ে যান রাজপরিবারের সদস্যরা।

মূল অনুষ্ঠান অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হলেও পরে বিদেশি রাজপরিবারের প্রতিনিধিদের জন্য সম্রাটের সৌজন্যে চা চক্রের আয়োজন করার কথা। এ ছাড়া সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী আবের সৌজন্যে ভোজসভার আয়োজনেও তাঁদের যোগ দেওয়ার কথা।

সোকুই নো রেই উপলক্ষে কেবল আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রাসাদে এসেছিলেন, তা নয়। তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাইরে জড়ো হয়েছিল সম্রাটের বেশ কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী। টাইফুন হাগিবিসের কবলে হতাহত আর ক্ষয়ক্ষতির শিকার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এদিনের কুচকাওয়াজ আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হলেও ওই শুভাকাঙ্ক্ষীরা নিজ উদ্যোগে প্রাসাদ প্রাঙ্গণে হাজির হয়ে যায়। মূল অনুষ্ঠান সরাসরি দেখার সুযোগ না পেলেও আবহটুকু পাওয়ার আশায় তারা এ কষ্ট স্বীকার করে।

সাধারণ মানুষের কাছে নতুন সম্রাটের সিংহাসনে আরোহণের অনুষ্ঠান কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝাতে ৫১ বছর বয়সী কিয়োকো তানাকা বলেন, ‘একজন জাপানি হিসেবে এটা আমার কাছে অত্যন্ত ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত।’ ঐতিহাসিক মুহূর্তকে আরো অর্থবহ করে তুলতে লঘু অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ লাখের বেশি কারাবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা