kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভোটাভুটি নাকচ করলেন স্পিকার

ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ফের ধাক্কা খেলেন জনসন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ফের ধাক্কা খেলেন জনসন

পার্লামেন্টে আরো একটি ধাক্কা খেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো তাঁর ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদের) চুক্তিটিতে গতকাল সোমবার ভোটাভুটি করাতে ব্যর্থ হয়েছেন। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অফ কমনসের স্পিকার জন বারকো এতে ভোটাভুটির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পার্লামেন্টের একই অধিবেশনে একই বিষয়ে বারবার ভোটাভুটি করা যায় না এবং তা হবে অস্বাভাবিক। 

এর আগে দিনভর নানা নাটকীয়তায় এক অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিরাজ করে। গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানায়, তারা ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা বাড়াবে এবং সময় বাড়াতে পার্লামেন্টের চিঠিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর না করলেও তা গ্রহণ করতে কোনো সমস্যা নেই। আবার জনসন হুমকি দিয়ে রেখেছেন, নতুন চুক্তিতে সংশোধনী আনার সম্ভাবনা তৈরি হলে তিনি ভোটাভুটিই প্রত্যাহার করবেন।

সময় বাড়ানোর বিষয়ে ইইউয়ের পক্ষে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বার্লিনে সাংবাদিকদের বলেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যদি চুক্তিটির ওপর অর্থপূর্ণ (চুক্তির পক্ষে) ভোট হয়, তাহলে ইইউ ব্রেক্সিটের জন্য সংক্ষিপ্ত সময় বাড়াবে। কারণ ওয়েস্টমিনস্টারকে অনুমোদন সারতে আরো অনেক সময় ব্যয় করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ আবশ্যক দায়িত্ব প্রদর্শন করবে। তারা আজ (গতকাল) একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’ তিনি বলেন, যদি ভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং চুক্তিটি প্রত্যাখ্যাত হয় তাহলে লম্বা সময় দিয়ে ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানো হবে।

ব্রাসেলসে গতকাল ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, ব্রেক্সিটের সময় বাড়াতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের চিঠিতে জনসন স্বাক্ষর না করা মানে কোনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন হবে, এমনটা নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা হাউস অব কমনসের গত শনিবারের ভোট এবং সময় বাড়ানোর অনুরোধ গ্রহণ করেছি। এখন প্রেসিডেন্ট টাস্ক ইইউয়ের ২৭ নেতার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।’

ভোটগ্রহণের আগে গতকাল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট বলেছে, প্রধানমন্ত্রী আর্টিকেল ৫০ বাড়ানোর ব্যাপারে ইইউয়ের কাছে অনুরোধ করার চেয়ে তিনি বরং আমৃত্যু লড়াই করতে রাজি আছেন। ফলে এ চুক্তিতে পার্লামেন্টারি সংশোধনীর জন্য যদি বিতর্কের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তিনি ভোটাভুটি প্রত্যাহার করে নেবেন।

এ ছাড়া গতকাল ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে এমপিদের সমর্থন আদায়ে ব্যাপক চেষ্টা চালান প্রধানমন্ত্রী জনসন ও তাঁর কার্যালয়। এর মধ্যেই লিসা নন্দী নামের বিরোধী দল লেবার পার্টির এক এমপি জানান, তিনি জনসনের চুক্তির পক্ষে ভোট দেবেন। তিনি বলেন, চুক্তিটি তিনি দ্বিতীয়বার পড়ে এর পক্ষে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া নতুন চুক্তিটির শুরু থেকেই বিরোধিতাকারী নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ডিইউপি এখন চুক্তি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। সূত্র : গার্ডিয়ান, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা