kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রেক্সিট দ্বন্দ্ব

ইউরোপীয় কমিশনে পরস্পরবিরোধী দুই চিঠি জনসনের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের (এমপি) চাপের মুখে অবশেষে ইউরোপীয় কমিশনে (ইসি) ব্রেক্সিট পেছানোর আবেদন করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিসন জনসন, কিন্তু সেটায় তাঁর স্বাক্ষর ছিল না। তবে ব্রেক্সিট পেছানোটা ভুল হবে, এমন মন্তব্য করে তিনি নিজের স্বাক্ষরসহ আরেকটি চিঠি তাঁদের কাছে পাঠিয়েছেন। এ দুই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় নেতারা কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা জানার আগেই আজ সোমবার ব্রিটিশ এমপিরা ব্রেক্সিট চুক্তির ওপর ভোটাভুটিতে অংশ নেবেন।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমনসে শনিবার ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে বিতর্ক হয়। ওই চুক্তির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে কমনস নেতারা ব্রেক্সিট পেছানোর পক্ষে রায় দেন। ফলে বাধ্য  হয়ে প্রধানমন্ত্রী জনসন ব্রেক্সিট পেছানোর আবেদন করে ইসি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের কাছে চিঠি পাঠান, তবে তাতে তিনি স্বাক্ষর করেননি। এটুকুতেই ক্ষান্ত হননি এ কনজারভেটিভ নেতা। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকরে বদ্ধপরিকর এ নেতা টাস্কের কাছে আরেকটি চিঠি পাঠান। নিজের স্বাক্ষরসংবলিত পরের চিঠিতে তিনি ইসি নেতাকে জানিয়েছেন, তিনি ব্রেক্সিট পেছাতে চান না, ব্রেক্সিট পেছানো ভুল হবে বলে তিনি মনে করেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়, টাস্কের কাছে পাঠানো প্রথম চিঠিটা জনসনের নয়, বরং সেটা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের।

চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে ইসি প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি কয়েক দিন সময় নেবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ব্রেক্সিটবিষয়ক মধ্যস্থতা দলের প্রধান মাইকেল বার্নিয়ার জানান, গতকাল রবিবার ইইউর রাষ্ট্রদূতরা মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য আলোচনায় বসেছিলেন। এত অল্প সময়ের আলোচনায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, বেক্সিট পেছাতে ব্রিটিশদের আবেদনের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট টাস্ক ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এ ব্যাপারে এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, ‘ব্রিটিশদের দিক থেকে কোনো অগ্রগতি হলে সেটা বিবেচনায় নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটা এখনো আলোচনার টেবিলে আছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট চুক্তিটা বাতিল করে দেয়নি। সুতরাং পথ বদলানোর কোনো প্রয়োজন নেই।’

নানা বাগিবতণ্ডা শেষে ব্রিটেন-ইইউ গত বৃহস্পতিবার ব্রেক্সিট চুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছায় এবং ইসিতে ওই চুক্তি পাস হয়ে যায়। গত শনিবার ওই চুক্তি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিতর্ক হয়। তবে সেদিন এমপিরা চুক্তির ওপর ভোটাভুটি না করে ব্রেক্সিট পেছানোর পক্ষে ভোট দেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী জনসন ব্রেক্সিট পেছানোর আবেদন জানিয়ে ইসি নেতার কাছে চিঠি পাঠাতে বাধ্য হন।

এ অবস্থার মধ্যে জনসন আজ সোমবার হাউস অব কমনসে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ভোটাভুটি করবেন। ব্রেক্সিট পেছানোর আবেদনের জবাবে ইইউ কী বলবে, সেটা জানার আগেই চুক্তির ব্যাপারে এমপিদের সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে।

কমনসে চুক্তি পাসের ব্যাপারে আশাবাদী জনসন শিবির : ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব আজ হাউস অব কমনসে ব্রেক্সিট চুক্তি পাস করানোর ব্যাপারে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। কমনসে আজ চুক্তির পক্ষে পর্যাপ্তসংখ্যক ভোট পড়বে বলে তাঁর বিশ্বাস। গতকাল তিনি বলেন, ‘পার্লামেন্টের জটিলতা সত্ত্বেও চুক্তি পাস করানোর মতো পর্যাপ্ত ভোট আমাদের আছে বলেই মনে হচ্ছে।’

আরেক কনজারভেটিভ নেতা মাইকেল গভ গতকাল মন্তব্য করেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করার ‘পথ ও সক্ষমতা’ সরকারের আছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা