kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তুরস্ক-কুর্দি পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভাঙার অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধবিরতি ভাঙার জন্য তুরস্ক ও কুর্দি বাহিনী পরস্পরের ওপর দোষারোপ করছে। এর মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কুর্দিরা কথিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ছেড়ে চলে না গেলে পুরোদমে হামলা শুরু করবেন তিনি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তুরস্ক ঘোষিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠায় মার্কিন বাহিনী কোনো ভূমিকা রাখবে না।

তুরস্ক গত ৯ অক্টোবর থেকে সিরিয়ার উত্তর সীমান্তে কুর্দিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমালোচনা আর সতর্কবার্তা সত্ত্বেও তুরস্ক অভিযান অব্যাহত রাখে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টায় গত বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে তুরস্ক। এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিরিয়ার উত্তর সীমান্ত থেকে ভেতর দিকে ৩২ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা ছেড়ে কুর্দিদের চলে যেতে বলা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা জানালেও পরদিন শুক্রবার সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ) শীর্ষক কুর্দি বাহিনী অভিযোগ করে, তুরস্ক যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে। এসডিএফের মুখপাত্র মুস্তাফা বালির দাবি, তুর্কি বাহিনী যুদ্ধবিরতি ভেঙে রাস আল আইন শহরে কুর্দি বাহিনী, সাধারণ নাগরিক ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

গতকাল শনিবার কুর্দিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পাল্টা অভিযোগ করে তুরস্ক। তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তুর্কি সশস্ত্র বাহিনী চুক্তির প্রতি পূর্ণ আনুগত্য দেখাচ্ছে। তা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা গত ৩৬ ঘণ্টায় মোট ১৪টি হামলা করেছে।’ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান অবশ্য গত শুক্রবার বলেছিলেন, কুর্দিরা সরে যেতে শুরু করেছে। এদিন তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অঙ্গীকার পালিত হলে নিরাপদ অঞ্চল ইস্যুর সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু সেটা ব্যর্থ হলে ১২০ ঘণ্টা পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান শুরু হবে।’

যুদ্ধবিরতি ভাঙার ব্যাপারে তুরস্ক ও কুর্দি যোদ্ধাদের পরস্পরের ওপর দোষারোপের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদর দপ্তর পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্ক ঘোষিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠায় মার্কিন বাহিনী কোনো ভূমিকা রাখবে না। তবে তুরস্ক ও এসডিএফ উভয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হবে বলে গত শুক্রবার জানানো হয়। এ ছাড়া পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নিরাপদ অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি ও তাদের স্বজনদের আটকে রাখা শিবিরগুলোর ওপর আকাশপথে পেন্টাগনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সমালোচনা চলছেই : মার্কিন কংগ্রেসের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল গত শুক্রবার ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিরিয়া নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ‘সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কৌশলগতভাবে ভয়াবহ এক ভুল। এর ফলে আমেরিকান জনগণ আরো অনিরাপদ হয়ে পড়বে, আমাদের শুত্রুরা শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররা দুর্বল হয়ে পড়বে।’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা