kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কাশ্মীরে বিক্ষোভ নয় : পুলিশ প্রধান

গত মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার বোন, মেয়েসহ এক ডজনের বেশি নারীকে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার অবসানের বিরুদ্ধে শ্রীনগরে অবস্থান কর্মসূচির জন্য গ্রেপ্তার করা হয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জম্মু ও কাশ্মীরের সামগ্রিক পরিস্থিতির যত দিন পর্যন্ত না উন্নতি হচ্ছে তত দিন সেখানে কোনো বিক্ষোভ-আন্দোলনের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানাল সেখানকার পুলিশ প্রশাসন। কাশ্মীর উপত্যকায় বিধিনিষেধ সম্পূর্ণরূপে না তুলে নেওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের প্রতিবাদ-আন্দোলন করার বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হবে না, স্পষ্ট জানালেন পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিং।

গত মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার বোন, মেয়েসহ এক ডজনেরও বেশি নারীকে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার অবসানের বিরুদ্ধে শ্রীনগরে অবস্থান কর্মসূচির জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার ওই নারী বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মীদের ব্যক্তিগত জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিং বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেওয়ার আগে উপত্যকায় আরো শান্তি ফিরিয়ে আনা।’

তিনি বলেন, ওই দিন প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নারীদের হাতে থাকা কিছু প্ল্যাকার্ড ‘খুব ভালো’ ছিল না এবং তাতে অবশ্যই আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল এবং তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে ‘কার্যকর পদক্ষেপই নিতে হবে’।

গ্রেপ্তার হওয়া নারীদের মধ্যে ড. আবদুল্লাহর বোন সুরাইয়া আবদুল্লাহ, তাঁর মেয়ে সাফিয়া আবদুল্লাহ খান এবং জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক প্রধান বিচারপতি বশির আহমেদ খানের স্ত্রী হাওয়া বশিরও ছিলেন। শ্রীনগরের লাল চকের কাছে প্রতাপ পার্কে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জন্য প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ওই নারীরা জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা প্রতিবাদ শুরু করতেই পুলিশ তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এক ডজন নারীকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নিয়ে যায়। তাঁদের গ্রেপ্তার করে নিকটবর্তী থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।

দিলবাগ সিং বলেন, ‘উসকানি শুধু কথার মাধ্যমেই আসে না, প্ল্যাকার্ডে লেখা শব্দের মাধ্যমেও উসকানি দেওয়া যায়। তিনি আরো বলেন, শ্রীনগরে যে নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা রয়েছে সেগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উচিত। নারী প্রতিবাদকারীদের আগেই এই আন্দোলনের আগে জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে অনুমতি চাইতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা তাঁরা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। তিনি আরো বলেন, ‘অবশ্যই এখন কোনো বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না, পরিস্থিতির আরো উন্নতি হলে আমরা ভেবে দেখব।’

কাশ্মীর উপত্যকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ৭২ দিন পর পোস্ট পেইড মোবাইল ব্যবস্থা ফের চালু হলে তার এক দিন পরই ওই নারীরা বিক্ষোভের জন্য জড়ো হয়েছিলেন। সূত্র : এনডিটিভি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা