kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের দাবি

এল চ্যাপোর ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল

এল চ্যাপো গুজম্যানের ছেলে ওভিদিও গুজম্যানকে আটক করেন মাদকবিরোধী লড়াইয়ের বিশেষ বাহিনী। তাঁকে আটক করার পরই বাড়িটি ঘিরে ফেলে এল চ্যাপো প্রতিষ্ঠিত মাদকচক্রের সদস্যরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাদক সম্রাট এল চ্যাপো গুজম্যানের ছেলেকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে যথার্থ বলে মন্তব্য করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ অবরাদোর। তাঁর যুক্তি, ওভিদিও গুজম্যানকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেক মানুষের প্রাণ রক্ষা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনালোয়া প্রদেশের রাজধানী কুলিয়াচানে  মাদকবিরোধী অভিযান চালায় ‘ন্যাশনাল গার্ডের’ সদস্যরা। অভিযানের একপর্যায়ে একটি বাড়ি থেকে এল চ্যাপো গুজম্যানের ছেলে ওভিদিও গুজম্যানকে আটক করেন মাদকবিরোধী লড়াইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ এই বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু তাঁকে আটক করার পরই বাড়িটি ঘিরে ফেলে এল চ্যাপো প্রতিষ্ঠিত মাদকচক্র ‘সিনালোয়া কার্টেল’-এর সদস্যরা। তারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ন্যাশনাল গার্ডের ওপর হামলা চালালে শহরজুড়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। তাতে এক পুলিশ ও মাদকচক্রের পাঁচ সদস্যসহ নিহত হয় আটজন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ওভিদিও গুজম্যানকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা। এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় আগুয়ারুতো কারাগার থেকে পালিয়ে যায় ৫১ কয়েদি।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ অবরাদোর বলেন, ‘ওভিদিও গুজম্যানকে শেষমেশ গ্রেপ্তার না করায় অনেক মানুষ প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ সদস্যরাই নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।’

মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা অবরাদোর আরো বলেন, ‘মানুষের জীবনের চেয়ে একজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

প্রেসিডেন্টের এমন মনোভাবের প্রশংসা করেছেন গুজম্যান পরিবারের আইনজীবী হোসে লুইস গনজালেস মেজা। তিনি বলেন, ‘অবরাদোর খুবই মানবিক এবং তিনি একজন প্রকৃত খ্রিস্টান।’ ওভিদিও গুজম্যানকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

এল চ্যাপোর (৬২) সময় যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মাদক সরবরাহ করত ‘সিনালোয়া কার্টেল’। চলতি বছরের শুরুতে তাঁর কারাদণ্ড হয়। এর আগে ২০১৫ সালে মেক্সিকোর কারাগার থেকে টানেলের মাধ্যমে পালিয়ে যান এল চ্যাপো। পরে আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারের জন্য ২০১৭ সালে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয় মেক্সিকো সরকার। বর্তমানে কয়েক ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মাদক কারবার চালাচ্ছেন ওভিদিও। এল চ্যাপো তিনটি বিয়ে করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়। ধারণা করা হয়, ওভিদিওর জন্ম হয়েছে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রিসেলদা লোপেজ পেরেজের ঘরে। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা