kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রেক্সিট পেছানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ব্রিটিশ এমপিরা

চুক্তি নিয়ে ভোট কাল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রেক্সিট পেছানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ব্রিটিশ এমপিরা

আবার ব্রেক্সিট পেছানোটা অর্থহীন ও ব্যয়বহুল এবং তাতে জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে কমে যাবে—এমন যুক্তি দিয়ে গতকাল শনিবার বিরোধী শিবিরের মত আদায়ে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আর সেটা উপেক্ষা করে হাউস অব কমনসের সদস্যরা ব্রেক্সিট আরো পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে ব্রেক্সিট ইস্যুতে দ্বিতীয় দফা গণভোটের দাবিতে পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেছে ১০ লাখ মানুষ।

ছুটির দিন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের অধিবেশনের ঘটনা বিরল। ব্রেক্সিট ইস্যুতে ভোটাভুটির স্বার্থে গতকাল সেই বিরল ঘটনাই ঘটেছে। ৩৭ বছরের মধ্যে এ প্রথম ছুটির দিনে কমন্স নেতারা অধিবেশনে বসেন। প্রধানমন্ত্রী জনসন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে যে ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করেছেন, সেটা নিয়ে গতকাল কমন্সে বিতর্ক হয়।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ব্রেক্সিট চুক্তির ওপর ভোটাভুটি শুরুর আগে নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবার ব্রেক্সিট পেছানোটা ‘অর্থহীন, ব্যয়বহুল’। শুধু তা-ই নয়, বারবার ব্রেক্সিট পেছানোর কারণে জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে বলেও মন্তব্য করেন এই কনজারভেটিভ নেতা। তাঁর প্রস্তাবিত ব্রেক্সিট চুক্তি নতুন পথ খুলে দেবে এবং ব্রিটেন ও ইইউর জন্য তা মঙ্গলজনক হবে, এমন দাবি করে তিনি পার্লামেন্ট সদস্যদের (এমপি) প্রতি চুক্তিতে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। অপরদিকে বিরোধী শিবির তো বটেই, পার্লামেন্টে কনজারভেটিভদের মিত্র উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টিও (ডিইউপি) ব্রেক্সিট চুক্তির বিরোধিতা করেছে।

আগামীকাল সোমবার চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে ব্রেক্সিট চুক্তি বাতিল হয়ে গেলে ব্রেক্সিট কার্যকরের জন্য ইইউর কাছে বাড়তি সময় চাওয়া ছাড়া জনসনের সামনে আর কোনো রাস্তা থাকবে না। কেননা চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে ইতিমধ্যে পার্লামেন্টে আইন পাস করিয়ে রেখেছেন এমপিরা। অথচ জনসন বলে রেখেছেন, মরে গেলেও তিনি ব্রেক্সিট পেছানোর জন্য ইইউর কাছে আবেদন করবেন না।

ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে এ দোটানার মধ্যে জনসনের সমর্থক শিবির তাঁর হয়ে হাউস অব কমন্সে চেষ্টা চালান। এমপি মার্ক ফ্রাঁসোয়া বলেন, ‘আজ যদি হাউস অব কমন্স পক্ষে ভোট দেয়, তবে ১৫ দিনের মধ্যে আমরা একটা স্বাধীন দেশের বাসিন্দা হব।’

জনসন ও তাঁর সহযোগীরা যখন ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত, তখন পার্লামেন্টের বাইরে ব্রেক্সিট ইস্যুতে দ্বিতীয় দফা গণভোটের দাবিতে বিক্ষোভ করে বিপুলসংখ্যক মানুষ। গণভোটে যেন ব্রেক্সিট বাতিলের বিষয়টি যোগ করা হয়, সেই দাবিও জানায় বিক্ষোভকারীরা।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে টেরেসা মে তিনবার চেষ্টা করেও তাঁর প্রস্তাবিত ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করাতে পারেননি। ফলে দুবার ব্রেক্সিট পেছাতে হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাঁর পদত্যাগের পর স্থলাভিষিক্ত হন জনসন। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে চান তিনি। ইইউর সঙ্গে কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, তিনি আর ব্রেক্সিট পেছাতে চান না।

নানা বিতর্ক সত্ত্বেও গত বৃহস্পতিবার জনসন ইইউর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান এবং ইউরোপীয় কমিশনে ব্রেক্সিট চুক্তি পাস করিয়ে আনেন। কিন্তু জনসনের বিরোধী শিবির চুক্তিতে সায় দিচ্ছে না। এ চুক্তি ব্রিটেনের স্বার্থবিরোধী, এমন যুক্তিতে ওই ব্রিটিশ এমপিরা গতকাল বিতর্ক চলাকালে চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা