kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অযোধ্যা মামলায় নয়া মোড়

জমি ছাড়ার প্রস্তাবের খবর ভিত্তিহীন : মুসলিমপক্ষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণা হয়নি এখনো। তার আগেই অন্য মোড় নিল ভারতে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলা। জমির দাবি ছাড়ার প্রস্তাবে একেবারেই সায় নেই বলে এবার জানিয়ে দিল অযোধ্যা মামলায় মুসলিমপক্ষের একাংশ। সম্প্রতি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচার হয়েছে যে সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড নাকি ওই জমি নিয়ে তাদের দাবি ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতা কমিটির কাছে। এমন অবস্থায় মুসলিমপক্ষের একাংশ বলেছে, ওই খবরে হতবাক হয়েছে তারা।

মুসলিমপক্ষের প্রতিনিধিদের দাবি, শীর্ষ আদালত নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী কমিটির সঙ্গে তাঁদের কোনো সমঝোতাই হয়নি। যদি হয়ে থাকে তা একমাত্র সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্ফ বোর্ডের সঙ্গে। কিন্তু শর্ত সাপেক্ষে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বোর্ডের কোনো সমঝোতা হলেও তা সংবাদমাধ্যমে কিভাবে ফাঁস হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। ইচ্ছাকৃতভাবেই বিষয়টি ফাঁস করা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি তাঁদের। 

১৭ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ অবসর নেওয়ার আগে এই মামলার রায় দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে উত্তর প্রদেশ সরকার রায়ের প্রত্যাশায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে এলাকায়।

এর আগে বুধবার বন্ধ খামে একটি রিপোর্ট জমা দেয় সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মধ্যস্থতা কমিটি। ওই রিপোর্টে বলা হয়, বিতর্কিত জমির দাবি ছাড়তে রাজি হয়েছে সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্ফ বোর্ড। এতে আরো বলা হয়, ওয়াক্ফ বোর্ড ওই বিতর্কিত স্থানের দাবি ছাড়ার পাশাপাশি সেই জমিতে রাম মন্দির তৈরি করা নিয়েও কোনো আপত্তি তোলেনি। বোর্ড অন্য কোনো উপযুক্ত জায়গায় মসজিদ নির্মাণেরও প্রস্তাব করেছে বলে দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র।

মুসলিম আবেদনকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী পাঁচ আইনজীবীর একটি দল মধ্যস্থতা প্যানেলের এজাতীয় কোনো প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার করা অস্বীকার করে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে তারা। ওই মামলার অন্যতম আবেদনকারী এম সিদ্দিকের প্রতিনিধিত্বকারী এজাজ মকবুল বিশদ বিবৃতিতে বলেছেন, ওয়াক্ফ বোর্ডকে বাদ দিয়ে অন্য মুসলিম দলগুলো সুপ্রিম কোর্ট-নিযুক্ত মধ্যস্থতা প্যানেলের প্রস্তাবিত বন্দোবস্তের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়া রিপোর্টে সমঝোতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের কোনো প্রস্তাবে আমরা রাজি নই। যে পদ্ধতিতে মধ্যস্থতা হয়েছে এবং মীমাংসার মাধ্যমে জমির দাবি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাতেও একমত নই আমরা।’

এজাজ মকবুলের দাবি, ‘কোনো রকম সমঝোতায় যেতে রাজি নয় বলে মামলায় প্রধান হিন্দুপক্ষ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। মুসলিম আবেদনকারীরাও মীমাংসায় রাজি হননি। একমাত্র ব্যতিক্রম সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড। এমন পরিস্থিতিতে কোনো রকম সমঝোতার প্রস্তাব গ্রহণ করাই সম্ভব নয়।’

সমঝোতার খবর ইচ্ছাকৃতভাবে সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করা হয়েছে বলেও দাবি করেন এজাজ মকুবল। তাঁর কথায়, ‘উত্তর প্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্ফ বোর্ড জমির দাবি তুলে নিতে রাজি হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। এই সমঝোতার বিষয়টি জানাজানি হলো কিভাবে? কারণ সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি চলাকালীনই সমঝোতা প্রক্রিয়া শুরু হয়ে থাকবে। সে ক্ষেত্রে নির্বাণী আখড়ার ধর্ম দাস, সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্ফ বোর্ডের জাফর ফারুকি এবং হিন্দু মহাসভার চক্রপাণিসহ হাতে গোনা কয়েকজনের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়েছে। হয় মধ্যস্থতাকারী কমিটিই বিষয়টি ফাঁস করেছে, নয়তো বা নির্বাণী আখড়া।’ মামলার শুনানির ঠিক শেষ দিনে ওই রিপোর্ট জমা পড়া এবং তা ফাঁস হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে জাফর ফারুকি এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য না করলেও বৃহস্পতিবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন বোর্ডের আইনজীবী শহিদ রিজভি। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের নিজেদের মতামত জানিয়েছে বোর্ড। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই এখনই এ নিয়ে মন্তব্য করা উচিত হবে না। তবে মধ্যস্থতাকারী কমিটির রিপোর্টে হিন্দু-মুসলিম দুই পক্ষই খুশি হবে বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু মামলায় মুসলিমপক্ষের একাংশ ওয়াক্ফ বোর্ডের সঙ্গে একমত না হওয়ায় অযোধ্যা মামলার নিষ্পত্তি আদৌ সম্ভব কি না, নতুন করে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্র : এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা