kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কুর্দিদের সঙ্গে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি তুরস্কের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুর্দিদের সঙ্গে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি তুরস্কের

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দিদের সঙ্গে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে তুরস্ক। এ সময়ের মধ্যে কুদি গেরিলারা সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার এলাকায় প্রস্তাবিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ত্যাগ করলে এ হামলা বন্ধ করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। বৃহস্পতিবার আংকারায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের মধ্যে বৈঠকের পর দুই পক্ষ থেকেই এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

কুর্দিদের ওপর তুর্কি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্ক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়ে। এর মধ্যে কুর্দি মিত্রদের ত্যাগ করার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে আংকারা পাঠান। এর আগে কুর্দি গেরিলাদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে তাদের সীমান্ত থেকে বিতাড়িত করতে এবং সিরিয়ার অভ্যন্তরে ৩০ কিলোমিটার এলাকায় সেফ জোন গড়ে তুলতে গত ৯ অক্টোবর এই হামলা শুরু করেছিল তুরস্ক। কুর্দিরা জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধবিরতির দিকে নজর রাখবে।

মূলত উত্তর সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই কুর্দিদের ওপর সপ্তাহব্যাপী তুর্কি আক্রমণের সুযোগ করে দেন। এরপর আবার তিনিই হামলার কারণে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং তুরস্কের অর্থনীতি ধ্বংস করে দেওয়ারও হুমকি দেন।

বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, পাঁচ দিনের জন্য সব যুদ্ধ বন্ধ থাকবে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে ‘তুর্কি প্রস্তাবিত’ সেফ জোন থেকে প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে। তিনি আরো বলেন, এরপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র কুর্দি বাহিনী এসডিএফকে নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন ওয়াইপিজির সঙ্গেও কাজ করবে।

তবে সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত জেমস জাফরি জানিয়েছেন, কুর্দি যোদ্ধা এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয়। কারণ ওয়াশিংটন গাজর ও লাঠি (পুরস্কার ও শাস্তি) দুটিই কুর্দিদের ওপর ব্যবহার করেছে। তিনি আংকারায় সাংবাদিকদের বলেন, কোনো সন্দেহ নেই যে ওয়াইপিজে সীমান্তে থাকতে চাইবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসওএইচআর জানিয়েছে, গত আট দিনের যুদ্ধে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, যার বেশির ভাগই কুর্দি। এর মধ্যে ৭২ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছে। এ হামলায় সিরিয়ার ভেতরে তিন লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুট কাভুসোগলু আংকারায় সাংবাদিকদের জোর দিয়ে বলেন, ‘তুরস্ক এই অভিযান মুলতবি রেখেছে, বিরতি নয়। এটা কোনো যুদ্ধবিরতি নয়। যুদ্ধবিরতি দুটি বৈধ পক্ষের মধ্যে সংঘটিত হয়।’

ট্রাম্পের প্রশংসা ও খোঁচা : যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে টেনে বৃহস্পতিবার টেক্সাসের ডালাসে সমর্থকদের এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যা করেছি তা ছিল প্রথাহীন। আমি বলেছিলাম তারা কিছুক্ষণের জন্য যুদ্ধ করতে যাচ্ছে। অনেকটা দুটি বাচ্চার মতো, যাদের আপনারা মারামারি করতে যেতে দেবেন এবং পরে আবার তাদের ফিরিয়ে আনবেন। তারা (তুর্কি-কুর্দি) কিছুদিনের জন্য যুদ্ধ করেছে এবং এটা ছিল খুবই বাজে বিষয়।’ এর আগে ট্রাম্প কুর্দিদের সঙ্গে তুরস্কের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত বলেছেন, এটা কুর্দি ও তুর্কিদের জন্য ‘মহান দিন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ‘মহান দিন’।

তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ : অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তুর্কি বাহিনী ও তাদের সিরীয় মিত্ররা (আসাদ সরকারবিরোধী বিদ্রোহী) গত আট দিনের হামলায় অনেক যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে। সংস্থাটির মতে, আংকারার অভিযানে মারাত্মক সহিংসতা, যুদ্ধাপরাধ, সংক্ষিপ্ত বিচারের নামে হত্যা (সামারি কিলিংস) ও বেআইনি হামলা সংঘটিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া আংকারা থেকে পাওয়া যায়নি।

অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে বলা হয়, তুর্কি বাহিনী এবং তাদের সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপগুলো বেসামরিক মানুষের জীবন তছনছ করে লজ্জাজনক প্রদর্শনী করেছে। ১৭ জন ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা