kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চাপ সত্ত্বেও কুর্দিদের ওপর হামলায় তুরস্ক বেপরোয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাপ সত্ত্বেও কুর্দিদের ওপর হামলায় তুরস্ক বেপরোয়া

ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দিদের ওপর সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে বেপরোয়া অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির আহ্বান গত মঙ্গলবার প্রত্যাখ্যান করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। তুর্কি-মার্কিন উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের আংকারা সফর সামনে রেখে গত মঙ্গলবার এমন অনমনীয় অবস্থান ব্যক্ত করলেন এরদোয়ান। অন্যদিকে গতকাল বুধবার কুর্দিদের প্রবল প্রতিরোধযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়া তুর্কি হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে বলেছে, তারা তুর্কি ও সিরীয় সরকারি বাহিনীর মুখোমুখি লড়াই ঠেকাতে চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে সিরীয় বাহিনী সীমান্তবর্তী মানজিব শহরে পৌঁছে গেছে।

তুরস্ক গত সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পরপরই কুর্দিদের ওপর সামরিক হামলা শুরু করে। তুরস্ক মনে করে, কুর্দি যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স, যারা ‘সন্ত্রাসী’ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। আংকারা চাচ্ছে, সিরিয়ার ভেতরে ৩০ কিলোমিটার এলাকার একটি ‘সেফ জোন’ তৈরি করতে, যাতে তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া ২০ লাখ সিরীয় শরণার্থীকে সেখানে পাঠাতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকরা বলছেন, ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে তুরস্ককে হামলার জন্য ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়েছে। যদিও এরই মধ্যে হামলা বন্ধে তুরস্কের দুই মন্ত্রণালয় ও তিন মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তুরস্কের অভিযানে এ পর্যন্ত কয়েক ডজন (তিন শতাধিক) বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

অন্যদিকে হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির আহ্বানে চটেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। তিনি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “তারা ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা করতে বলে। কিন্তু আমরা কখনোই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করব না। তারা চেষ্টা করছে আমরা অভিযান বন্ধ করি। তারা নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার। আমরা কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চিন্তিত নই।” এর মধ্যে গতকাল বুধবার বাকু থেকে ফেরার পথে বিমানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইটগুলো সম্পর্কে ওয়াকিফহালও নন।

এই পরিস্থিতিতে কুর্দি মিলিশিয়ারা প্রতিরোধযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল ভোরে গুরুত্বপূর্ণ সিরীয় সীমান্ত শহর রাস আল আইনে তীব্র যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কুর্দি যোদ্ধারা শহরটির দখল ফিরে পেতে তীব্র লড়াই করে যাচ্ছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, পশ্চিমের শহর আল-আবায়েদেও তীব্র যুদ্ধ চলছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থাটি আরো বলছে, এরই মধ্যে কুর্দি বাহিনীর পাশে সিরীয় সরকারি বাহনীও মোতায়েন করা হয়েছে, যা গত আট বছরে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি দুর্লভ ঘটনা। এর মধ্যে দুজন সিরীয় সেনা মারাও গেছে।

সিরীয় সরকারি বাহিনী মঙ্গলবার কৌশলগত শহর মানবিজেও পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে তুর্কি সেনা ও তাদের অনুগত সিরিয়ার সরকারবিরোধী যোদ্ধারা সেখানে জড়ো হয়েছে। এই শহরেই দুই বছর ধরে আইএসবিরোধী যুদ্ধে মার্কিন সেনারা অবস্থান করে এসেছিল, যা গত সপ্তাহে ছেড়ে যায় তারা। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা