kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তুরস্কের দুই মন্ত্রণালয়, তিন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তুরস্কের দুই মন্ত্রণালয়, তিন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখায় তুরস্কের দুটি মন্ত্রণালয় ও তিন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গত সোমবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ফোন করে হামলার বন্ধের আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এদিকে ইস্যুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের পাশাপাশি ইরাকের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।

এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জ্বালানিমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তারা। নিষেধাজ্ঞা বলে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সম্পদ জব্দ করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের লেনদেন অপরাধ হিসেবে গণ্য  হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তুরস্ক সরকারের পদক্ষেপে নিরপরাধ বেসামরিক লোকজন বিপদগ্রস্ত হয়েছে, ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে এবং আইএসআইএসকে (ইসলামিক স্টেট) পরাজিত করার উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত সোমবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসিতে অর্থমন্ত্রী স্টিভেন এমনুচিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অত্যন্ত কঠোর’ এ নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে।

এমনুচিনের পাশে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স শিগগিরই তুরস্ক সফরে যাবেন জানিয়ে বলেন, ‘তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী সীমান্ত ইস্যুতে দীর্ঘমেয়াদি মীমাংসায় তুরস্ক রাজি না হওয়া পর্যন্ত, সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ও আশু যুদ্ধবিরতিতে দেশটি রাজি না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে এবং আরো কঠোর হবে।’ পেন্স জানান, গত সোমবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে ফোন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই কথা বলেন। ট্রাম্প আরো জানান, তুরস্কের সঙ্গে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া তুরস্কের স্টিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

একই দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো তুরস্কে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। জবাবে তুরস্ক বলেছে, তারা ইইউর ‘অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের কারণে তাদের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতার সম্পর্কগুলো পর্যালোচনা করে দেখবে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান গতকাল বলেছেন, লক্ষ্য অর্জন না হওয়ায় পর্যন্ত সিরিয়ায় তুরস্কের হামলা চলবে।

তুরস্ক গত বুধবার থেকে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সামরিক হামলা চালাচ্ছে। অব্যাহত হামলায় এরই মধ্যে বেসামরিক নাগরিকসহ উভয় পক্ষের ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে দেড় লাখের বেশি মানুষ। এ ছাড়া কুর্দিরা জানিয়েছে, বন্দি শিবিরে আটক আইএস জঙ্গি ও তাদের স্বজনদের আর পাহারা দিয়ে রাখতে পারবে না। এরই মধ্যে হাজারখানেক বন্দি পালিয়েছে বলেও জানায় তারা। গতকাল সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) জানায়, তুরস্কের হামলার কারণে এরই মধ্যে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে সহায়তা সংস্থাগুলো।

এ অবস্থায় আইএসের জোরালো পুনরুত্থানের আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক অঙ্গন। গত সোমবার এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোনে হুঁশিয়ারি দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ। তাঁর অভিমত, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও এর পরপরই তুরস্কের হামলার জেরে ওই অঞ্চলে আইএসের পুনরুত্থানের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। একই দিন ম্যাখোঁ এ বিষয়ে তুরস্ক ও ইরাকের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও কথা বলেন।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা