kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অভিজিৎ : কলকাতা থেকে নোবেলের মঞ্চ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিজিৎ : কলকাতা থেকে নোবেলের মঞ্চ

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নাগরিক। এ বছর অর্থনীতিতে যিনি যৌথভাবে নোবেল পেলেন, সেই অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগটা এখনো অটুট।

বাবা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রেসিডেন্সির অধ্যাপক ছিলেন। অর্থনীতি পড়াতেন। আশির দশকে ওই কলেজেই অর্থনীতির ছাত্র ছিলেন অভিজিৎ। ওই কলেজেরই আর এক কৃতী শিক্ষার্থী অমর্ত্য সেন এই অর্থনীতিতেই নোবেল পেয়েছিলেন ১৯৯৮ সালে। অভিজিৎ দ্বিতীয় বাঙালি, যিনি অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন। খবরটা পেলেন যখন, তখন যুক্তরাষ্ট্রে মাঝরাত। সবে ঘুমিয়েছেন। মিনিট চল্লিশেক পর থেকেই ফোনের পর ফোন। শুভেচ্ছা বার্তায় ভেসে যাচ্ছেন যখন অভিজিৎ, কলকাতা  থেকে তাঁর মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর ফোন টানা ব্যস্ত পেয়েছেন। এর মধ্যেই অভিজিতের প্রথম প্রতিক্রিয়া, ‘খবরটা পেয়ে আমি খুশি।’ না, এখানেই থামেননি তিনি। সঙ্গে জুড়লেন, ‘আমি পেয়েছি, তবে বহু কৃতী ব্যক্তি রয়েছেন। বহু প্রবীণ গবেষক দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন।’

ঘটনাচক্রে এবারের অর্থনীতির নোবেল যে দুজনের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন অভিজিৎ, তাঁদের একজন তাঁর স্ত্রী এস্থার ডাফলো। মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, ডাফলোও কলকাতায় এসে দীর্ঘদিন ছিলেন। এখানে কাজ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘যখন ওদের বিয়ে হয়নি, তখনো বেশ কয়েকবার আমাদের বাড়িতে থেকে গেছে ডাফলো।’

অভিজিতের বেড়ে ওঠার অংশটা কলকাতায় হলেও তাঁর জন্ম হয়েছিল মুম্বাইয়ে। সেটা ১৯৬১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। কয়েক বছর পর কলকাতায় চলে আসা। স্কুলজীবন সাউথ পয়েন্টে। এরপর ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে রাশিবিজ্ঞান নিয়ে ভর্তি হন। কিন্তু বাড়ি থেকে দূরত্বটা একটা ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে। ফলে ভর্তি হন প্রেসিডেন্সিতে। এবার অর্থনীতি। ১৯৮১-তে প্রেসিডেন্সি থেকে অর্থনীতির স্নাতক হন অভিজিৎ। সে বছরই স্নাতকোত্তর পড়তে চলে যান দিল্লিতে—জওয়াহেরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর হার্ভার্ড। সেখানে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইনফরমেশন ইকোনমিকস’।

এরপর আর পেছনে ঘুরে দেখতে হয়নি অভিজিেক। নিজের পছন্দের এবং অনুসন্ধিৎসার বিষয় নিয়েই গবেষণা করেছেন। ঘুরে বেড়িয়েছেন তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। জাতিসংঘে ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে তিনি ছিলেন মহাসচিবের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা। গবেষণাপত্র, বিভিন্ন জার্নালে লেখার পাশাপাশি অভিজিৎ লিখে গেছেন একের পর এক বই। এর মধ্যে অর্থনীতি বিষয়ে অভিজিতের লেখা চারটি বই বিশ্বজুড়ে বিপুলভাবে সমাদৃত। তাঁর ‘পুওর ইকোনমিকস’ বইটি তো গোল্ডম্যান স্যাক্স বিজনেস বুক সম্মানে ভূষিতও হয়। একই সঙ্গে দুটি তথ্যচিত্রও তৈরি করেছেন অভিজিৎ।

ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক অধ্যাপক হিসেবে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে কর্মরত অভিজিৎ আসলে আম আদমির সমস্যার কথাই ভেবে গেছেন। ভেবে গেছেন দারিদ্র্যের কারণ! অভিজিতের যে শুধু অর্থনীতিতেই অবাধ যাতায়াত তা নয়, তিনি একজন দারুণ রাঁধুনিও। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতেও তাঁর জ্ঞান অবাধ। সূত্র : আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা