kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বাধীনপন্থী ৯ নেতার বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

একবার ব্যর্থ হলেও স্বাধীনতার স্বপ্ন ছাড়েনি কাতালানরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একবার ব্যর্থ হলেও স্বাধীনতার স্বপ্ন ছাড়েনি কাতালানরা

স্পেনের আদালত কাতালান নেতাদের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বার্সেলোনার রাস্তায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

স্বাধীনতার প্রশ্নে ২০১৭ সালের গণভোটের পর থেকেই স্পেনের কাতালোনিয়া অঞ্চল একটি বিভক্ত ও স্থবির হয়ে পড়া জনপদ। সেই আপাত শান্ত ইস্যুটিকে উসকে দিয়ে গতকাল সোমবার প্রদেশটির ৯ স্বাধীনতাকামী নেতাকে ৯ থেকে ১৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়েছেন স্পেনের একটি আদালত। দুই বছর আগে স্বাধীনতার জন্য তাঁরা যে উদ্যোগ নেন তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের এই শাস্তির রায় ঘোষণা করা হলো। তাঁরা সবাই ওই সময় কাতালোনিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন।

কাতালোনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কার্লোস পুজদেমন শাস্তি এড়াতে অনেক দিন থেকেই বেলজিয়ামে স্বেচ্ছা নির্বাচনে রয়েছেন। সেখান থেকে এক টুইট বার্তায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি, ‘১০০ বছরের ক্ষোভ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর এখনই সময়।’ কারান্তরীণ কাতালোনিয়ার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ওরিয়ওল জুংকুয়েরাস এক বার্তায় তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘যাঁরা শুধুই ক্ষতি করতে চান তাঁদের আমরা বলতে চাই, আজই সব কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আপনারা জয় বা জনসমর্থন কোনোটিই পাননি। আমরা আবার ফিরে আসব আরো শক্তিশালী হয়ে এবং জিতব।’ জুংকুয়েরাসকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থীরা রায়ের প্রতিক্রিয়ায় পাঁচটি শহর থেকে প্রাদেশিক রাজধানী বার্সেলোনামুখী যাত্রা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী শুক্রবার তারা সেখানে পৌঁছাবে। ওই দিন ধর্মঘটেরও ডাক দেওয়া হয়েছে। আর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে গতকাল বিকেলেই বার্সেলোনায় বিক্ষোভের জন্য তাদের সমবেত হওয়ার কথা ছিল।

স্পেনের অত্যন্ত সমৃদ্ধ অঞ্চল কাতালোনিয়া। তাদের লিখিত ইতিহাসই এক হাজার বছরের বেশি পুরনো। বেশ কয়েক বছর ধরে স্বায়ত্তশাসনে কাটছাঁট, অর্থনৈতিকভাবে সরকারের বঞ্চনা, শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে বেশ কয়েক দশক ধরেই স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে কাতালোনিয়া। বিশেষ করে গত ১০ বছরে এই দাবির পক্ষে তীব্রতা বেড়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বার্টা বারবেট বলেন, ‘কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে বড় ধরনের জনসমর্থন বরাবরই ছিল। এখনো আছে। তবে রাজনীতিবিদরা যে ধরনের যত সহজে স্বাধীনতা পাওয়া যাবে বলে জনগণকে আশ্বাস দিয়ে গণভোটের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন বাস্তবে বিষয়টি ততটা সহজ থাকেনি। গণভোটের ঘোষণার পর থেকেই স্পেন সরকার এর পুরোপুরি বিরুদ্ধে অবস্থার নেয়। পরে ওই গণভোট বাতিল করে নেতাদের জেলে পুরে দেওয়া হয়। স্পেনের এতটা শক্ত অবস্থান আশা করেনি কাতালোনিয়া। ফলে ওই সময় থেকেই এক ধরনের বিভক্তি এ রাজ্যে দৃশ্যমান। এক দল সব কিছুর বিনিময়ে স্বাধীনতার প্রত্যাশী। তবে তাদের সংখ্যা কম।’

৭৫ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত কাতালোনিয়ার ব্যাপারে প্রায় অভিন্ন মতের কথা জানালেন বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হুয়ান বোতেল্লা, ‘দুই বছর আগের সেই মানসিক শক্তি এখন আর আন্দোলনকারীদের নেই। তার চেয়েও বড় কথা, এবার কী করে এগোতে হবে সে সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা বা নেতৃত্বও তাঁদের সামনে নেই। তবে সবচেয়ে বড় কথা, স্বাধীনতার স্পৃহা এখনো মানুষের মধ্যে ফুরিয়ে যায়নি।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা