kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিরীয় কুর্দিদের বিরুদ্ধে তুরস্কের হামলা

‘আইএস বন্দিদের আর পাহারা দিতে পারব না’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের অব্যাহত হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কুর্দিরা জানিয়েছে, আটক ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের পাহারা দিয়ে রাখা তাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। নিজেদের শহর আর জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের কাছে এখন প্রধান বিষয়। সিরিয়ায় তুরস্কের হামলা শুরুর জেরে আইএসের উত্থানের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আশঙ্কার মধ্যে কুর্দিরা এ ঘোষণা দিল। এদিকে তুরস্কের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানি।

তুরস্ক গত বুধবার থেকে উত্তর সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। তাদের এ হামলায় সহযোগী হিসেবে রয়েছে তুরস্কপন্থী সিরীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি। অব্যাহত এ হামলায় উভয় পক্ষের যোদ্ধাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানায়, গতকাল রবিবার কমপক্ষে ১৪ সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার নিহত হয় ৯ জন। নিহতদের মধ্যে এক নারী কুর্দি রাজনীতিকও রয়েছে। ফিউচার সিরিয়া পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল হেভরিন খালাফ একটি সভা শেষে ফেরার পথে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গুলি করে হত্যা করে সিরিয়ার ন্যাশনাল আর্মি। দলটি অবশ্য এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। খালাফ হত্যাকাণ্ড কুর্দিদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি, এমন মন্তব্য করে কুর্দি রাজনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মুতলু সিভিরগলু বলেন, ‘তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতা ছিল। আমেরিকান, ফরাসি ও বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সব সময় তিনি থাকতেন।’ এসওএইচআরের হিসাবে, তুরস্কের হামলায় সিরিয়ায় এ পর্যন্ত ৩৮ জন সাধারণ মানুষ এবং ৮১ জন কুর্দি যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

যুদ্ধে হতাহতের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতের সংখ্যাও বাড়ছে। জাতিসংঘের হিসাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কুর্দিদের হিসাবে সংখ্যাটি এক লাখ ৯০ হাজারের কাছাকাছি। জাতিসংঘের আশঙ্কা, তুরস্কের হামলা অব্যাহত থাকলে উত্তর সিরিয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার লাখ পেরিয়ে যেতে পারে। এর আগে ১৪টি মানবাধিকার সংগঠনে যৌথ বিবৃতিতে সাড়ে চার লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা জানানো হয়।

এদিকে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রেদুর জলিল গত শনিবার এক টেলিভিশন বিবৃতিতে বলেন, ‘আইএস কারাবন্দিদের পাহারা দেওয়া এখন আর মূল কাজ নয়। কয়েদিদের আটকাবস্থা নিশ্চিত করার আগ্রহ যদি কারো থাকে, তাদের আগমনকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি এবং তারা যেন সমাধান খুঁজে বের করে।’ ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আমাদের নগর ও আমাদের জনগণকে রক্ষায় আমরা এখন তৎপর হব।’

তুরস্কের অব্যাহত হামলার তাত্ক্ষণিক পরিণতি সম্পর্কে এসডিএফ নেতা জলিল হুঁশিয়ারি দেন, তুরস্কের হামলার সুযোগ আইএস আবার সংগঠিত হচ্ছে। কামিশলি ও হাসাকেহ শহরে আইএসের ঘাঁটি আবার চালু হয়েছে বলেও দাবি করেন এ নেতা। না বললেই নয়, আইএস গত শনিবার সিরিয়ায় নতুন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে এবং ওই দুটি শহরে গাড়িবোমা হামলা করেছে।

অস্ত্র বিক্রি করবে না ফ্রান্স-জার্মানি : গত শনিবার ফ্রান্স ও জার্মানি জানিয়েছে, তারা তুরস্কে সব ধরনের যুদ্ধাস্ত্রের চালান স্থগিত করেছে। এ কাতারে আগেই যোগ দিয়েছে ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা