kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শুক্রবারটা খুবই বাজে কাটল ট্রাম্পের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত শুক্রবারের দিনটি খুবই হতাশার মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি আদালত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাঁর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। একই দিন পদত্যাগ করেছেন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী কেভিন ম্যাকআলিনান। এ ছাড়া এ দিনটিতেই তিনি বরখাস্ত করেছেন ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মেরি ইয়োনোভিচকে।

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সপ্তাহখানেক ধরে অভিশংসনের আশঙ্কার মধ্যে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর বাইরে দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠান ‘মাজারস ইউএসএ’র কাছে তাঁর আয়-ব্যয়ের নথি তলব করছিলেন ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতারা। কিন্তু একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নথি প্রকাশ করা যাবে না—এমন যুক্তি দেখিয়ে সেসব নথি দিতে ট্রাম্প অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন।

গত শুক্রবার ফেডারেল আদালতের তিন সদস্যদের একটি প্যানেল রায় দেন, ট্রাম্পের যুক্তির আইনি কোনো ভিত্তি নেই। বিচারক ডেভিড এস টাটেল বলেন, ‘বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে মাজারসের কাছে নথি তলবের এখতিয়ার কংগ্রেসের রয়েছে।’

ট্রাম্প অবশ্যই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। কিন্তু আপিল বিভাগেও এই রায় বহাল থাকলে ট্রাম্প আরো বেকায়দায় পড়ে যাবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান অভিশংসনের প্রক্রিয়া আরো গতিশীল হবে। এ ছাড়া এসব রায়ের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের আইনজীবীদের সক্ষমতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাবে। একই দিন ট্রাম্পের অভিবাসনবিষয়ক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রায় দেন নিউ ইয়র্ক, টেক্সাস, ওয়াশিংটন ও ক্যালিফোর্নিয়ার চারটি আদালত। রায়ে বলা হয়, দৃশ্যমান প্রতিবন্ধকতা কিংবা কোনো ধরনের নীতিমালা তৈরি করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দমন করা যাবে না।

এর মধ্যে শুক্রবার রাতে ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী কেভিন ম্যাকআলিনান। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ম্যাকআলিনান চতুর্থ ব্যক্তি, যিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেন। ট্রাম্প অভিবাসবিরোধী যতগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন, তার বেশির ভাগই হয়েছে এই ম্যাকআলিনানের হাত ধরে।

শুক্রবার ট্রাম্পের জন্য ‘সুখবর’ বলতে ছিল চীনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যচুক্তি। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে।

পাঁচটি আদালতের রায় বিপক্ষে গেলেও নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরাই জিতব। আপনারা জানেন যে এ রকম বহু মামলা ছিল, যেগুলোতে আমরাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছি।’

এদিকে শুক্রবার সকালে ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মেরি ইয়োনোভিচকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। ইয়োনোভিচ এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’ ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইয়োনোভিচকে কংগ্রেসে তলব করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, ইয়োনোভিচ কী তথ্য দিলেন, সেটা নিয়ে তারা চিন্তিত নয়। সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা