kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

সৌদি উপকূলে ইরানের তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌদি আরবের জেদ্দা সমুদ্রবন্দরের কাছে ইরানের জাতীয় তেল কম্পানির (এনআইওসি) একটি ট্যাংকারে দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে গতকাল শুক্রবার বলা হয়, সন্ত্রাসী হামলার কারণে তেলবাহী জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। অন্যদিকে জাতীয় ট্যাংকার কম্পানির (এনআইটিসি) দাবি, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও তেল রক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লোহিত সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

জেদ্দা বন্দর থেকে ৯৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থানকালে ইরানের তেলবাহী জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির নাম সিনোপা। অথচ এনআইটিসির দাবি, সাবিতি শীর্ষক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোন জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে কি না, তা নিয়ে দ্বিমুখী বক্তব্য পাওয়া গেলেও খবরটি ছড়ানোর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।

লোহিত সাগরে ইরানের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় প্রতিবেশী সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের উত্তেজনার পারদ আরো চড়বে বলে পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা।

ওই এলাকায় উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর পঞ্চম বহর জানিয়েছে, তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের খবর তারা জানে। তবে এ বিষয়ে তারা আর কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ইরানি ট্যাংকারে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। এ ছাড়া এনআইটিসি জানিয়েছে, জাহাজের খোলে দুটি পৃথক বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণের কারণে যে আগুন লেগেছিল তা নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং জাহাজের সবাই নিরাপদে আছে বলে নিশ্চিত করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি।

বেশ কিছুদিন ধরেই ভারত মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সুয়েজ খালের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনকারী গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘রেড সি শিপিং এরিয়া’য় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত মে ও জুনে উপসাগরীয় এলাকায় তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং গত মাসে সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান একটি তেলেক্ষেত্রে হামলার পর আবার উপসাগরীয় এলাকায় তেলাবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটল। উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজে ও সৌদি তেলক্ষেত্রে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করেছে রিয়াদ এবং ওয়াশিংটন। অন্যদিকে তেহরান সব সময় ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইরানের ওপর হামলার দায় চাপানোর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা দেওয়ার নামে জোট গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যাতে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

যুক্তরাষ্ট্র ও সুন্নি প্রতিবেশী সৌদি আরব উভয়ের সঙ্গে চরম বৈরিতায় সময় পার করছে ইরান। তদুপরি রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যে ইরানের তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা