kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ব্রেক্সিট নিয়ে ‘গঠনমূলক বৈঠকে’ বার্কলে-বার্নিয়ে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার বৃহস্পতিবার এক বৈঠক শেষে ব্রেক্সিট নিয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন। তাঁরা একমত হয়ে বলেছেন, ব্রেক্সিট চুক্তির জন্য তাঁরা একটি ‘পথ’ খুঁজে পেয়েছেন। সেই ‘পথের সম্ভাব্যতা’ যাচাইয়ে গতকাল শুক্রবার সাতসকালে গঠনমূলক বৈঠকে বসেছিলেন ব্রিটেন ও ইউরোপের শীর্ষ ব্রেক্সিট সমঝোতাকারীরা। ব্রিটিশ ব্রেক্সিটমন্ত্রী স্টিফেন বার্কলে ও ইইউ প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ের মধ্যকার এ বৈঠক ব্রাসেলসে ইইউয়ের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠক শেষে বার্নিয়ে বলেন, ‘বার্কলে ও ব্রিটিশ দলের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আমি আগেই বলেছি, ব্রেক্সিট হচ্ছে পর্বতের চূড়ায় ওঠার মতো। আমাদের সতর্কতা, সংকল্প ও ধৈর্যের প্রয়োজন।’

রুদ্ধধার ওই বৈঠককে ব্রিটিশ এক মুখপাত্রও ‘গঠনমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে কোনো পক্ষই বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হয়নি। একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেছেন, ‘এই পর্যায়ে আমরা যত কম শুনি ততই ভালো। যদি সব কিছু প্রকাশ্য হয়ে যায়, তখন সেটির গুরুত্ব থাকে না।’

এর আগে বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ভারাদকার বলেন, খুবই ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। স্বল্প রাস্তার পথ হিসেবে এটিকে দেখা যেতে পারে, অন্যথায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

মূলত আইরিশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্রেক্সিট বারবার ঝুলে যাচ্ছে। বিতর্কিত ‘ব্যাক স্টপ’ শর্তের কারণে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে সম্পাদিত ব্রেক্সিট চুক্তি তিন দফা প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট। গত সপ্তাহে বরিস জনসন আইরিশ সীমান্ত নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন। এ প্রস্তাবের মধ্যে আছে, ব্রেক্সিটের পরও উত্তর আয়ারল্যান্ড খাদ্য, শিল্পজাত পণ্য ও পশুসম্পদের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজারব্যবস্থার মধ্যেই থাকবে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের অন্য অংশের মতোই তারা শুল্ক ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাবে।

অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের সীমানার কী হবে, সেটি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বরিস জনসনের প্রস্তাব হলো, উত্তর আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশে থাকতে চায় কি না সে ব্যাপারে সেখানকার পার্লামেন্টের প্রতি চার বছর পরপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে।

আগামী ১৭ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলন শুরু হবে। ঠিক এর আগে জনসন-ভারদাকারের নতুন ‘পথ’ আলোর মুখ দেখবে কি না, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ব্রেক্সিটের সময়সীমা নিয়ে ব্রাসেলস নমনীয়তা দেখাবে। কারণ সম্ভাব্য চুক্তির লিখিত খসড়া করতে কিছুটা সময় লাগবে।

ভারদকারও মনে করছেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করাটা কঠিন। কিছুটা সময় বিলম্বের প্রয়োজন হতে পারে। কারণ আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনি জনসনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর ব্যাপারে আশাবাদী। ভারদকারের ভাষায়, ‘আমি মনে করি আমরা একটা চুক্তিতে পৌঁছতে পারব। অক্টোবর নাগাদ সেটি হতে পারে।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। তিনি চান, চুক্তিসহ বিচ্ছেদ অথবা চুক্তিহীন বিচ্ছেদ, যা-ই হোক সেটা ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই করতে হবে। তবে তৃতীয়বারের মতো ব্রেক্সিট বিলম্বের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি আইন পাস হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, ইইউ সম্মেলনের শেষ দিন ১৯ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তি করতে ব্যর্থ হলে জনসন সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে বাধ্য হবেন। অবশ্য ইউরোপীয় সূত্রগুলো বলছে, ইউরোপিয়ান নেতারা ব্রিটেনকে নতুন করে সময় দিতে পারেন। এমনকি জনসন সময় বাড়ানোর আবেদন না করলেও। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা